প্রকাশিত: ১৮ মে ২০২৬, ০৬:০৮ পিএম
1708
২৫ মে ২০২৬, ০৪:৩৭ এএম
আসন্ন ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের বাজেটকে সামনে রেখে দেশের ভ্যাট ব্যবস্থা সহজীকরণ এবং ব্যবসাবান্ধব কাঠামো গড়ে তোলার দাবি জোরালো হয়েছে। অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও কর বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, করহার বাড়ানোর পরিবর্তে স্বচ্ছ, সহজ ও প্রযুক্তিনির্ভর ভ্যাট ব্যবস্থা চালু করলে দীর্ঘমেয়াদে রাজস্ব আদায় বাড়বে এবং কর পরিপালনও বৃদ্ধি পাবে।
সোমবার (১৮ মে) এক আলোচনায় সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইকোনমিক রিসার্চ (সিএসইআর) এবং ভ্যাট বিশেষজ্ঞরা ভ্যাট আইনের বিভিন্ন সংস্কারের সুপারিশ তুলে ধরেন। এতে অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সংজ্ঞা সরলীকরণ, ডিজিটাল সেবাকে কর কাঠামোর আওতায় আনা, কর গণনা সহজ করা এবং টার্নওভার ও নিবন্ধন কাঠামো পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান ভ্যাট ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো জটিল আইন ও ব্যাখ্যানির্ভর প্রশাসন, যা ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় বাড়াচ্ছে এবং অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
এ বিষয়ে কর প্রশাসনের একজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বলেন, সরকার রাজস্ব ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করার উদ্যোগ নিয়েছে। ভবিষ্যতে এমন একটি অটোমেশনভিত্তিক কর ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে করদাতার জটিলতা কমবে এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজ হবে।
এফবিসিসিআই-এর সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন বলেন, কর আইন যত জটিল হবে, ব্যবসার ব্যয় তত বাড়বে। তিনি ভ্যাট ব্যবস্থায় ব্যাখ্যানির্ভরতা কমিয়ে সরলতা আনার ওপর জোর দেন। তাঁর মতে, বিনিয়োগকারীদের জন্য নীতির স্থিতিশীলতা ও পূর্বানুমানযোগ্যতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য বর্তমান নিবন্ধন ও রিটার্ন ব্যবস্থা এখনও জটিল, যার ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান কর ব্যবস্থার বাইরে থেকে যাচ্ছে। তাই করহার বাড়ানোর বদলে করভিত্তি সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
সিএসইআর-এর চেয়ারপারসন সাকিফ শামীম বলেন, আন্তর্জাতিক মানের ভ্যাট ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হলো কম জটিলতা, বিস্তৃত করভিত্তি এবং উচ্চ কর পরিপালন।
তিনি বলেন, ভ্যাট আইনে ব্যবহৃত কিছু জটিল ধারণা প্রশাসনিক ব্যাখ্যার সুযোগ বাড়ায়, যা ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করে। “সরবরাহ”, “ভ্যাটযোগ্য সরবরাহ” এবং “ভ্যাটমুক্ত সরবরাহ” স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা হলে কর ব্যবস্থা আরও কার্যকর হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান ভ্যাট কাঠামো মূলত পণ্যকেন্দ্রিক হলেও ডিজিটাল অর্থনীতির প্রসার ঘটায় সফটওয়্যার, ক্লাউড সার্ভিস ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মভিত্তিক সেবার ওপর কর নির্ধারণে নতুন নীতিগত কাঠামো প্রয়োজন।
বিশ্লেষকদের মতে, ভ্যাট সংস্কারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি। এজন্য তথ্যভিত্তিক অডিট, শক্তিশালী ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং স্বচ্ছ আপিল ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।
তাদের মতে, ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের বাজেট এই খাতে বড় সংস্কারের সুযোগ তৈরি করেছে। একটি সহজ, প্রযুক্তিনির্ভর ও ব্যবসাবান্ধব ভ্যাট কাঠামো বাস্তবায়ন করা গেলে তা রাজস্ব বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সক্ষমতাও বাড়াবে।