প্রকাশিত: ১৮ মে ২০২৬, ০৬:৪৭ পিএম
1704
২৫ মে ২০২৬, ০৪:৩৭ এএম
রংপুরে গর্ভের সন্তানসহ এক নারীকে নির্মমভাবে হত্যার দায়ে মাসুদ মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার (১৮ মে) রংপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফজলে খোদা মো. নাজির এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, পোশাক কারখানায় কাজ করার সময় মাসুদ মিয়া ও সান্তনা বেগমের পরিচয় হয়। প্রথমে তাদের মধ্যে পারিবারিক সম্পর্ক থাকলেও পরে তা প্রেমে রূপ নেয়। একপর্যায়ে তারা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে একসঙ্গে বসবাস শুরু করেন।
পরবর্তীতে সান্তনা বেগম অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে বিয়ের জন্য চাপ দেন। তবে মাসুদ মিয়া বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং পরে গ্রামের বাড়িতে চলে আসেন।
২০২৩ সালের ১২ জুলাই সান্তনা বেগম পীরগঞ্জে গিয়ে বিয়ের দাবি জানান। এরপর মাসুদ মিয়া তাকে কৌশলে একটি আখক্ষেতে নিয়ে যান। সেখানে গলায় পা দিয়ে চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। ওই সময় গর্ভের সন্তানও মারা যায়।
পরদিন ১৩ জুলাই রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার আখক্ষেত থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক নারী ও একটি শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তদন্তে মরদেহগুলোর পরিচয় নিশ্চিত হয়।
র্যাবের অভিযানে পরবর্তীতে মাসুদ মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে জানা যায়।
মামলায় মোট ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি জরিমানার আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, “এই রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানাই।”
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী জানান, রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি পাওয়ার পর আপিল করা হবে।