প্রকাশিত: ২৪ মে ২০২৬, ০৪:০৩ পিএম
1691
২৫ মে ২০২৬, ০৫:২৮ এএম
‘কালা জামাই’ ও ‘সাদা জামাই’
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর সবচেয়ে বড় গবাদি পশুর হাট গাবতলীতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গরু, মহিষ, ভেড়া, দুম্বা ও খাসি নিয়ে আসতে শুরু করেছেন ব্যাপারীরা। হাটে ছোট-বড় ও মাঝারি আকারের নানা জাতের গরু উঠলেও এখন পর্যন্ত ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের মাঝে বাড়তি কৌতূহল ও আকর্ষণ তৈরি করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থেকে আনা দুটি বিশাল আকৃতির গরু। খামারি ও বিক্রেতারা অত্যন্ত আদরে বড় করা এই দানবীয় গরু দুটির নাম রেখেছেন ‘কালা জামাই’ ও ‘সাদা জামাই’। হাটের ১ নম্বর গেট দিয়ে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে বিশাল দেহের এই গরু দুটি, যেগুলোকে একনজর দেখতে এবং ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভিড় জমাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ।
সরেজমিন গাবতলী হাট ঘুরে দেখা যায়, প্রবেশপথের কাছেই রাজকীয় ভঙ্গিতে বেঁধে রাখা হয়েছে এই দুই যমজ আকর্ষণকে। দূর থেকেই অনেকে গরু দুটিকে দেখে থমকে দাঁড়াচ্ছেন, কেউ কাছে গিয়ে গরুর ওজন, খাবার এবং দাম সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইছেন। প্রচণ্ড গরমে বিশাল দেহের এই পশু দুটি যেন অসুস্থ বা অস্বস্তিতে না পড়ে, সেজন্য খামারিদের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে রাজকীয় ব্যবস্থা। গরুর মাথার উপরে ও নিচে বড় বড় বৈদ্যুতিক পাখা লাগানো রয়েছে এবং কিছুক্ষণ পরপরই বোতল থেকে পানি দিয়ে গামছা ভিজিয়ে পরিচর্যাকারীরা পরম যত্নে গরু দুটির গা মুছিয়ে দিচ্ছেন। পরিচর্যাকারীদের এই চরম ব্যস্ততার মধ্যেও চারপাশে চলছে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের নানা গুঞ্জন—কেউ গরুর পাহাড়সম আকার দেখে অবাক হচ্ছেন, কেউ আবার এর বিশাল আকাশচুম্বী দাম শুনে নিজের বাজেটের হিসাব মেলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন।
গরু দুটির বিক্রেতারা জানান, সম্পূর্ণ দেশীয় ও প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে দীর্ঘ সময় ধরে পরম মমতায় যত্ন করে এদের বড় করা হয়েছে। এর মধ্যে কুচকুচে কালো রঙের ‘কালা জামাই’কে প্রায় ৫ বছর এবং ধবধবে সাদা রঙের ‘সাদা জামাই’কে প্রায় ৩ বছর ধরে লালন-পালন করা হয়েছে। বর্তমানে ‘কালা জামাই’র লাইভ ওয়েট বা ওজন প্রায় ১৫৫০ কেজি (৩৮ মণের বেশি) এবং ‘সাদা জামাই’র ওজন প্রায় ১৩০০ কেজি (৩২ মণের বেশি)। এই বিশাল আকৃতির কারণেই স্বভাবতই এদের দামও চাওয়া হচ্ছে বেশ চড়া; বিক্রেতারা ‘কালা জামাই’ এর দাম হাঁকছেন ৩০ লাখ টাকা এবং ‘সাদা জামাই’ এর জন্য দাম চাওয়া হচ্ছে ২৫ লাখ টাকা।
গরু দুটির মূল মালিক হাজি ইয়াকুব মিয়া হলেও হাটে এগুলো বিক্রির দায়িত্বে থাকা মো. মামুন বলেন, "গরুগুলোর এমন ব্যতিক্রমী নাম রাখার পেছনে আমাদের খামারের এক ধরনের গভীর আবেগ জড়িয়ে রয়েছে। জামাই যেমন শ্বশুরবাড়ির মানুষের কাছে অত্যন্ত আদরের ও স্পেশাল হয়ে থাকে, তেমনি এই গরু দুটিকেও আমরা ঘরের সন্তানের মতো অনেক যত্ন আর ভালোবাসা দিয়ে বড় করেছি। তাই সেই আদরের জায়গা থেকেই এদের নাম দেওয়া হয়েছে কালা জামাই ও সাদা জামাই।" তিনি আরও জানান, হাটে প্রচুর মানুষ ভিড় করলেও এবং অনেকে কৌতূহল দেখালেও এখন পর্যন্ত প্রকৃত বড় কোনো ক্রেতা দরদাম করতে এগিয়ে আসেননি। বেশিরভাগ মানুষই শুধু দেখতে ও সেলফি তুলতেই আসছেন এবং দাম শুনে সরাসরি কেনার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না। তবে বিক্রেতাদের প্রবল আশা, কোরবানির ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে, হাটে বড় ও সৌখিন গরুর ক্রেতাদের আনাগোনা ততই বাড়বে এবং শেষ মুহূর্তে কাঙ্ক্ষিত দামে গরু দুটি বিক্রি করা সম্ভব হবে।