প্রকাশিত: ২৪ মে ২০২৬, ০৪:২৬ পিএম
1690
২৫ মে ২০২৬, ০৫:২১ এএম
নরসিংদীর রায়পুরায় একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে ঢুকে রফিকুল ইসলাম মুন্সি (৪৫) নামের এক ব্যবসায়ীকে অত্যন্ত নির্মমভাবে গলা কেটে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা। গতকাল শনিবার (২৩ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের হাঁটুভাঙ্গা রেলগেটসংলগ্ন ‘ভাই ভাই স্টোর’ নামের দোকানে এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার পর পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে কিংবা এর সাথে কারা জড়িত, তা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। নিহত ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম মুন্সি ওই স্থানীয় এলাকার সাহারাজ খলিফার ছেলে এবং তিনি নিজের ওই দোকানে দীর্ঘদিন ধরে টাইলস, স্যানেটারি ও হার্ডওয়্যার সামগ্রীর ব্যবসা করে আসছিলেন। দোকানটি তাঁর নিজ বাড়ি থেকে প্রায় মাত্র পাঁচ মিনিটের হাঁটার দূরত্বে অবস্থিত ছিল।
নিহত ব্যবসায়ীর পরিবারের সদস্যরা জানান, রফিকুল ইসলাম প্রতিদিন নিয়ম করে রাত সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে দোকান বন্ধ করে রাতের খাবার খেতে বাড়ি ফিরতেন। তবে গতকাল শনিবার রাত ১০টার পরও তিনি বাড়িতে ফিরে না আসায় এবং কোনো যোগাযোগ না করায় পরিবারের সদস্যরা চরম উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। এরপর তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও অপর প্রান্ত থেকে কোনো সাড়াশব্দ বা যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। একপর্যায়ে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি করতে তাঁর দোকানে গিয়ে দেখেন যে, দোকানের সামনের শাটার নামানো থাকলেও তা বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল না। পরবর্তীতে তারা শাটার উঠিয়ে দোকানের ভেতরে প্রবেশ করতেই রক্তাক্ত ও বীভৎস অবস্থায় রফিকুলের মরদেহ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় পরিবারের সদস্যদের আর্তচিৎকারে আশপাশের স্থানীয় লোকজন ও ব্যবসায়ীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং থানা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে রায়পুরা থানা পুলিশের একটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল শেষে মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ সূত্র জানায়, শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর আজ রবিবার সকালে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের গলাসহ শরীরের বিভিন্ন সংবেদনশীল স্থানে ধারালো অস্ত্রের একাধিক গভীর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে এবং ঘটনাস্থলজুড়ে ছোপ ছোপ রক্তের দাগ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য সময়টিতে আশপাশের অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ হয়ে গিয়েছিল এবং পুরো এলাকাটি ছিল প্রায় জনমানবহীন ও নির্জন। এ ছাড়া ওই সময়ে এলাকায় দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ (লোডশেডিং) না থাকায় ঘুটঘুটে অন্ধকারে ঠিক কী ঘটেছিল, তা ধোঁয়াশার কারণে কেউ টের পাননি। রায়পুরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রবীর কুমার ঘোষ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "কী কারণে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে কিংবা এর পেছনে কারা জড়িত, তা এখনও সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অপরাধীদের শনাক্ত করতে আমরা ঘটনাস্থল ও এর আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও তা নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করছি। আশা করছি, খুব দ্রুতই জড়িতদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।" এই ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে রায়পুরা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।