প্রকাশিত: ২৪ মে ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম
1694
২৫ মে ২০২৬, ০৫:২০ এএম
ধর্ষক শাকিল
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক শিশু ধর্ষণ মামলায় বিজ্ঞ আদালত আসামি শাকিল হোসেনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তাকে তিন লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলা দায়েরের পর বিচারিক কার্যক্রম শুরুর মাত্র ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে এই ঐতিহাসিক ও দৃষ্টান্তমূলক রায় ঘোষণা করা হলো। আজ রোববার (২৪ মে) দুপুরে মেহেরপুর জেলা শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মো. তাজুল ইসলাম জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় পড়ে শোনান। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শাকিল হোসেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের আবদাল হকের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিল।
আদালত ও মামলার বিবরণী থেকে জানা গেছে, বিগত ২০২৫ সালের ১৬ জুন গাংনী উপজেলার চাঁদপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের ইছানুল হকের ৯ বছর বয়সী শিশু কন্যা তার বাবার জন্য দুপুরের খাবার নিয়ে মাঠে যাচ্ছিল। যাওয়ার পথে ওত পেতে থাকা বখাটে শাকিল হোসেন অবুঝ শিশুটিকে কৌশলে ডেকে পাশের একটি নির্জন পাট খেতে নিয়ে জোরপূর্বক পাশবিক ধর্ষণ করে। ওই সময় মাঠে কাজ করা আশপাশের স্থানীয় লোকজন ও কৃষকরা শিশুটির গোঙানি ও চিৎকার-কান্নাকাটি শুনে দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে গেলে ধর্ষক শাকিল দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে দুপুরের দিকে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী চারদিক থেকে ঘেরাও করে শাকিলকে আটক করে গণপিটুনি দেয় এবং গাংনী থানা পুলিশের হাতে তুলে দেন। এই ঘটনার পরদিন ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বাদী হয়ে শাকিলকে একমাত্র আসামি করে গাংনী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে মেডিকেল ও ফরেনসিক পরীক্ষা শেষে প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন (চার্জশিট) আদালতে দাখিল করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে মামলাটি মাত্র ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে দ্রুততম সময়ে নিষ্পত্তি করা হয়। দ্রুত রায় সম্পাদনের লক্ষ্যে দূরবর্তী এলাকায় অবস্থান করা সাক্ষীদের জন্য আদালতের পক্ষ থেকে বিশেষ ‘ভার্চুয়াল সাক্ষ্যগ্রহণ’ ব্যবস্থার সাহায্য নেওয়া হয়। এই মামলায় চিকিৎসক ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১২ জন সাক্ষী আদালতে তাদের সাক্ষ্য প্রদান করেন। দীর্ঘ আইনি পর্যালোচনা ও সাক্ষীদের অকাট্য সাক্ষ্যে আসামি শাকিল হোসেনের বিরুদ্ধে আনা ধর্ষণের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ বিচারক তাকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩, ২০২৬)-এর ৯(১) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি সফলভাবে পরিচালনা করেন স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট মুস্তাফিজুর রহমান তুহিন এবং আসামিপক্ষে আইনি লড়াই করেন অ্যাডভোকেট মারুফ আহমেদ বিজন। দ্রুততম সময়ে এই অকাট্য রায় আসায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার ও মেহেরপুরের সাধারণ মানুষ।