সোমবার ২৫, মে ২০২৬

২৫ মে ২০২৬, ০৫:২০ এএম

চট্টগ্রামকে ক্লিন ও গ্রিন সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে চান মেয়র ডা. শাহাদাত

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৪ মে ২০২৬, ০৫:২১ পিএম

1696

বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামকে একটি সম্পূর্ণ পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত ও আন্তর্জাতিক মানের বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও বহুগুণ জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, "চট্টগ্রামকে একটি দৃষ্টিনন্দন 'ক্লিন সিটি' হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে আমাদের বীর পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ভূমিকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও অগ্রগণ্য।" আজ রোববার (২৪ মে) দুপুরে নগরীর কাজীর দেউরীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে চসিকের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মাঝে বিশেষ ঈদ উপহার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র এই আশাবাদ ও পরিকল্পনার কথা জানান।

আজকের এই বিশেষ অনুষ্ঠানে চসিকে কর্মরত তিন হাজার ২৭০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর প্রত্যেককে উৎসবের আনন্দ বাড়িয়ে দিতে নগদ ৫ হাজার টাকা করে মোট এক কোটি ৬৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার বিশেষ ঈদ উপহার দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, এর আগে গত শুক্রবার (২২ মে) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের হাতে এই অনুদানের সম্পূর্ণ চেক আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হয়েছিল। অনুষ্ঠানে সিটি মেয়র আরও বলেন, পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা দিন-রাত রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নগরবাসীর জন্য একটি বাসযোগ্য ও রোগমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করেন। তাদের এই অনবদ্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দেওয়া এই ঈদ উপহার একটি অনন্য মানবিক উদ্যোগ, যা কর্মীদের কাজের প্রতি মনোবল ও দায়িত্ববোধ আরও বাড়িয়ে দেবে।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জীবনমান উন্নয়নে তাঁর প্রশাসনের বিভিন্ন যুগান্তকারী উদ্যোগের কথা তুলে ধরে বলেন, সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে চসিকের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য বহুতল আধুনিক আবাসন নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এই বৃহৎ প্রকল্পের আওতায় মোট সাতটি আধুনিক ভবনে এক হাজার ৩৬টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে, যেখানে প্রতিটি ফ্ল্যাটের আয়তন হবে প্রায় ছয়শ বর্গফুট। পাশাপাশি আসন্ন বর্ষাকালে কর্মীরা যাতে কোনো প্রকার স্বাস্থ্যঝুঁকি ছাড়া নির্বিঘ্নে রাজপথে কাজ করতে পারেন, সে জন্য প্রত্যেককে উন্নত মানের রেইনকোট দেওয়ার বিশেষ উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, "দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আমি বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি, যার ফলে নগরের সার্বিক পরিচ্ছন্নতা আগের চেয়ে অনেকটাই দৃশ্যমান উন্নত হয়েছে। তবে এখনো কিছু পদ্ধতিগত ঘাটতি রয়ে গেছে। বিশেষ করে রাতে বা ভোরে ময়লা পরিবহনের সময় চসিকের গাড়ি থেকে সড়কে বর্জ্য পড়ে যাওয়া এবং চালকদের দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানোর কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।" এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও চালকদের কঠোরভাবে সতর্ক থাকার কড়া নির্দেশনা দেন তিনি।

চট্টগ্রামের সাধারণ নগরবাসীর উদ্দেশ্যে মেয়র বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে ‘চসিক’ সুদূরপ্রসারী পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। উন্নত বিশ্বের মতো বর্জ্যকে ময়লা না ভেবে তা থেকে সম্পদ উৎপাদনের লক্ষ্যে রিসাইক্লিং, বায়োগ্যাস, গ্রিন ডিজেল ও গ্রিন বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো আধুনিক প্ল্যান্ট ও প্রকল্প বাস্তবায়নের জোরালো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উন্নত দেশগুলো যেখানে বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করে বিলিয়ন ডলার আয় করছে, সেখানে আমাদের দেশে এখনো অনেকেই যেখানে-সেখানে বা ড্রেনে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে প্লাস্টিক ও বর্জ্য ফেলছেন, যা শহরের জলাবদ্ধতা ও পরিবেশদূষণের অন্যতম প্রধান কারণ বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ডা. শাহাদাত হোসেন আরও জানান, আগে বেসরকারি মাধ্যমে বাসা থেকে সরাসরি বর্জ্য সংগ্রহের একটি উদ্যোগ নেওয়া হলেও নাগরিকদের আপত্তির কারণে তা বন্ধ করা হয়। তবে বর্তমানে নাগরিকদের ভোগান্তি কমাতে ‘চসিক’ নিজস্ব দক্ষ ব্যবস্থাপনায় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বাসা-বাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে মেয়র আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, "এই শহর আমাদের সবার। আপনারা যদি নিজেদের শহর মনে করে আন্তরিকতা ও গভীর দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করেন, তবে চট্টগ্রামকে খুব দ্রুতই পরিচ্ছন্ন, দূষণমুক্ত ও একটি আধুনিক তিলোত্তমা নগরীতে পরিণত করা সম্ভব।"

অনুষ্ঠানে চসিকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির চৌধুরী, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ইমাম হোসেন রানা, সিডিএর বোর্ড সদস্য জাহিদুল করিম কচি, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম মাহি ও উপপ্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মাসহ চসিকের বিভিন্ন ওয়ার্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।

Link copied!