প্রকাশিত: ২৪ মে ২০২৬, ০৬:০২ পিএম
1694
২৫ মে ২০২৬, ০৫:২০ এএম
বিগত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ২১ জন প্রার্থী নির্ধারিত আইনি সময়সীমার মধ্যেও তাঁদের নির্বাচনী ব্যয়ের চূড়ান্ত হিসাব জমা দেননি। আইন অমান্যকারী এই প্রার্থীদের ব্যয়বিবরণী দাখিল করার জন্য দ্বিতীয় দফায় আবারও বিশেষ সময় বাড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ১৪ জুনের মধ্যে এই ২১ প্রার্থীকে অবশ্যই তাঁদের সম্পূর্ণ নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব ইসিতে দাখিল করতে বলা হয়েছে।
ইসি সচিবালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, গতকাল শনিবার (২৩ ২৩ মে) প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অনুমোদনক্রমে সই করা এ–সংক্রান্ত একটি কড়া তাগিদাপত্র সংশ্লিষ্ট প্রার্থী ও তাঁদের প্রধান নির্বাচনী এজেন্টদের কাছে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব সময়মতো জমা না দেওয়ার কঠোর আইনি শাস্তির বিধানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব দাখিল করতে ব্যর্থ হলে অপরাধীর সর্বনিম্ন দুই বছর থেকে সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত সশ্রম জেল এবং মোটা অংকের অর্থদণ্ডের শাস্তির বিধান রয়েছে।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের বিদ্যমান বিধান অনুসারে, সংসদের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলের সরকারি গেজেট প্রকাশ হওয়ার পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে সকল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর জন্য তাঁদের মোট নির্বাচনী ব্যয়ের বিবরণী ও ভাউচার ইসিতে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি দেশজুড়ে বহুল আলোচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর পর নির্ধারিত সময় শেষ হলে অনেক প্রার্থীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রথম দফায় গত ৬ মে পর্যন্ত সময় বাড়িয়েছিল ইসি। কিন্তু এই বর্ধিত সময়সীমার মধ্যেও দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্রসহ মোট ২১ জন প্রার্থী তাঁদের খরচের হিসাব জমা দিতে ব্যর্থ হন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কমিশন চূড়ান্ত সুযোগ হিসেবে দ্বিতীয় দফায় আগামী ১৪ জুন পর্যন্ত সময় বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ইসি সূত্র অনুযায়ী যেসব প্রার্থী এখনো ব্যয়ের হিসাব দেননি (List of Defaulting Candidates)
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফায় নোটিশ পাওয়া ২১ জন প্রার্থীর নির্বাচনী এলাকা ও দলভিত্তিক তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
উত্তরবঙ্গ ও রংপুর বিভাগ:
* **নীলফামারী-৪:** মির্জা মো. শওকত আকবর (রওশন) – *বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি*
* **লালমনিরহাট-১:** হাবিব মো. ফারুক – *বাংলাদেশ জাসদ*
* **রংপুর-২:** মো. আজিজুর রহমান – *জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)*
* **কুড়িগ্রাম-৩:** সরকার মো. นুরে এরশাদ সিদ্দিকী – *গণ অধিকার পরিষদ*
* **চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১:** নবাব মো. শামসুল হোদা (*বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট*) এবং মো. আবদুল হালিম (*বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট-মুক্তিজোট*)
* **নাটোর-১:** মো. মোয়াজ্জেম হোসেন – *স্বতন্ত্র প্রার্থী*
বরিশাল ও উপকূলীয় বিভাগ (ভোলা):
* **ভোলা-১:** মো. আইনুর রহমান (জুয়েল) মিয়া – *গণ অধিকার পরিষদ*
* **ভোলা-২:** মহিবুল্লাহ খোকন (*স্বতন্ত্র*) এবং মো. আলা উদ্দিন (*আমজনতার দল*)
* **ভোলা-৩:** মো. আবু তৈয়ব (*গণ অধিকার পরিষদ*) এবং মো. কামাল উদ্দিন (*জাতীয় পার্টি*)
* **ভোলা-৪:** আবুল কালাম (*এনডিএম*) এবং মো. জালাল উদ্দীন রুমী (*আমজনতার দল*)
ঢাকা, চট্টগ্রাম ও অন্যান্য বিভাগ:
* **ময়মনসিংহ-৫:** মো. রফিকুল ইসলাম – *আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)*
* **ময়মনসিংহ-৬:** অধ্যাপক মো. জসিম উদ্দিন – *স্বতন্ত্র প্রার্থী*
* **ঢাকা-১৪:** মো. লিটন – *বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি*
* **সুনামগঞ্জ-৩:** শেখ মুশতাক আহমদ – *খেলাফত মজলিস*
* **চাঁদপুর-২:** মো. এনামুল হক – *নাগরিক ঐক্য*
* **চট্টগ্রাম-১২:** মোহাম্মদ ফরিদুল আলম – *বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী*
* **বান্দরবান:** আবু সাঈদ মো. সুজাউদ্দীন – *এনসিপি*
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ১৪ জুনের মধ্যে হিসাব জমা না দিলে এই প্রার্থীদের বিরুদ্ধে আরপিও-এর সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি মামলা দায়েরের জন্য জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হবে।