প্রকাশিত: ০৩ মে ২০২৬, ০১:০৯ পিএম
1701
১৪ মে ২০২৬, ০৮:১৩ পিএম
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে বাংলাদেশ আবারও কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থার দিকে ফিরে যেতে পারে। তার মতে, প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার কার্যকর না হলে দেশে একটি পূর্ণাঙ্গ ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র কাঠামো গড়ে ওঠার আশঙ্কা তৈরি হবে।
রোববার (৩ মে) সকালে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির আয়োজিত জ্বালানি, অর্থনীতি সংস্কার ও গণভোট বিষয়ক জাতীয় কনভেনশনে তিনি এসব কথা বলেন।
দিলারা চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রভাব ও দলীয়করণের কারণে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো জনগণের সেবা দেওয়ার মূল দায়িত্ব থেকে সরে গেছে। নির্বাচন কমিশনসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে অতীতে ক্ষমতায় টিকে থাকার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক কাঠামোকে দুর্বল করেছে এবং জনগণের আস্থা নষ্ট করেছে।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সংস্কারের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় গণতান্ত্রিক কাঠামোয় ফেরানোর আশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না।
তার অভিযোগ, নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই জুলাই সনদ ও সংশ্লিষ্ট সংস্কার প্রস্তাবগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ উপেক্ষিত বা বাতিল হচ্ছে। মানবাধিকার কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ একাধিক সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের সংস্কার প্রক্রিয়াও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হিসেবে তিনি বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর নির্বাহী প্রভাবের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করেন। তার মতে, বিচারকদের নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বাধীন কমিশনের মাধ্যমে করার পরিবর্তে তা নির্বাহী কর্তৃপক্ষের হাতে রাখার চেষ্টা করা হলে বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
দিলারা চৌধুরী বলেন, শক্তিশালী সরকার প্রয়োজন হলেও এর ওপর কার্যকর ‘চেক অ্যান্ড ব্যালান্স’ না থাকলে তা সহজেই কর্তৃত্ববাদের দিকে যেতে পারে। তিনি অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে সতর্ক করেন যে, নির্বাহী ক্ষমতা অতিরিক্ত কেন্দ্রীভূত হলে গণতান্ত্রিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে।
তিনি আরও বলেন, সাংবিধানিক কাউন্সিল গঠনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও ভারসাম্যপূর্ণ করা সম্ভব। এতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা ও জ্যেষ্ঠ বিচারপতিদের অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে।
শেষে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও সংস্কার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে সরকারকে রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে চাপ অব্যাহত রাখতে হবে। অন্যথায় দেশ আবারও কর্তৃত্ববাদী শাসনের দিকে ফিরে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।