প্রকাশিত: ১২ মে ২০২৬, ১১:৩৩ এএম
1685
১৪ মে ২০২৬, ০৪:৪৮ পিএম
স্বাস্থ্যখাত বিষয়ক সভায় বক্তব্য দিচ্ছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
দেশের ওষুধ শিল্পের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ওষুধের মূল্য ধরে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, শিল্পের স্বার্থ রক্ষা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি হঠাৎ করে ওষুধের দাম বাড়িয়ে জনগণ ও সরকারকে বিপদে ফেলা যাবে না।
সোমবার বিকেলে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘বেসরকারি খাতের সঙ্গে অংশীজন পরামর্শ সভা : স্বাস্থ্য খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এবং বিশ্বব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের স্বাস্থ্য খাতের নানা সীমাবদ্ধতা ও সংকট সামনে এসেছে। তিনি উল্লেখ করেন, মাত্র কয়েক মাস আগে সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করছে। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর স্বাস্থ্যখাতের বিভিন্ন অবকাঠামোগত দুর্বলতা, যন্ত্রপাতির সংকট এবং হাসপাতালগুলোর অব্যবস্থাপনার চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, দেশের অনেক হাসপাতালের দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ হয়নি। কোথাও ভবন থাকলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম নেই, আবার কোথাও ওষুধ সংকট রয়েছে। এ ধরনের চ্যালেঞ্জের মধ্যেই সরকারকে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হচ্ছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও দেশের স্বাস্থ্যখাতে বাড়তি চাপ তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ওষুধের মূল্য নির্ধারণে ভারসাম্যপূর্ণ নীতিমালার ওপর গুরুত্বারোপ করে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ওষুধ শিল্প একটি ব্যবসায়িক খাত এবং উদ্যোক্তাদের মুনাফার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে। তবে অন্যান্য পণ্যের মতো যখন-তখন ওষুধের দাম বাড়ানো হলে সাধারণ মানুষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তিনি বলেন, বছরের পর বছর ওষুধের দাম অপরিবর্তিত রাখাও বাস্তবসম্মত নয়, আবার এমন পরিস্থিতিও গ্রহণযোগ্য নয় যেখানে ইচ্ছামতো দাম বাড়িয়ে দেওয়া হবে। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে এমন একটি সমন্বিত নীতি নিশ্চিত করা, যাতে শিল্পখাত টিকে থাকে এবং সাধারণ মানুষও সাশ্রয়ী মূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ পেতে পারে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। তাই মানুষের জন্য ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবা এবং জীবনরক্ষাকারী ওষুধ নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ওষুধ শিল্পের উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত সমাধানের আশ্বাসও দেন তিনি।
তিনি বলেন, সরকার ও বেসরকারি খাত একসঙ্গে কাজ করলে দেশের স্বাস্থ্যসেবা আরও শক্তিশালী হবে। অন্যথায় স্বাস্থ্যখাত ও ওষুধ শিল্প উভয়ই ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সাইফুল এটিএম ইসলাম, বেসরকারি স্বাস্থ্যখাতের প্রতিনিধিরা, ওষুধ শিল্পের উদ্যোক্তা এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।