বৃহস্পতিবার ১৪, মে ২০২৬

১৪ মে ২০২৬, ১১:০০ পিএম

 ইসির প্রায় ৫০০ কোটি টাকার প্রকল্প ফেরত দিল একনেক

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ মে ২০২৬, ০৬:২৮ পিএম

1697

তারেক রহমান

ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম আরও গতিশীল করা এবং নির্বাচনি সরঞ্জামের নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তাবিত প্রায় ৫০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ফেরত দিয়েছে।

বুধবার (১৩ মে) রাজধানীর সচিবালয়ের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হলেও তা পুনর্বিবেচনার জন্য ফেরত পাঠানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

প্রকল্পটির নাম ছিল ‘নির্বাচনি ডাটাবেজের জন্য উপজেলা/থানা, জেলা ও আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসারের কার্যালয় ও সার্ভার স্টেশন নির্মাণ’। পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগ প্রকল্পটি একনেকে উপস্থাপন করে।

প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে একটি আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস, তিনটি জেলা নির্বাচন অফিস এবং ৪৫টি উপজেলা নির্বাচন অফিস ও সার্ভার স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। এছাড়া বিভিন্ন মেট্রোপলিটন থানার জন্য ১৬টি ফ্লোর-স্পেস ক্রয়ের প্রস্তাবও রাখা হয়েছিল।

নির্বাচন কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, পুরো প্রকল্পটি সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এ জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪৯২ কোটি ৮৩ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালে ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়নের পর যে জাতীয় তথ্যভান্ডার গড়ে ওঠে, সেটিকে আরও সুরক্ষিত ও শক্তিশালী করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। আগে কিছু উপজেলায় সার্ভার স্টেশন নির্মাণ করা হলেও ভূমি জটিলতা ও নতুন উপজেলা গঠনের কারণে অনেক এলাকায় স্থায়ী অবকাঠামো তৈরি করা সম্ভব হয়নি।

প্রকল্পের আওতায় ভূমি অধিগ্রহণ, আসবাবপত্র ও আধুনিক কম্পিউটার সরঞ্জাম ক্রয়ের পরিকল্পনাও ছিল। নির্বাচন কমিশনের মতে, নতুন সার্ভার স্টেশন নির্মাণ হলে ভোটার তালিকা হালনাগাদ, জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত সেবা এবং নির্বাচনি ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর ও দ্রুত হবে। পাশাপাশি ইভিএম, ব্যালট বাক্স ও অন্যান্য নির্বাচনি সরঞ্জাম নিরাপদে সংরক্ষণের সুযোগ তৈরি হতো।

একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারি অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের জন্য আলাদা ভবন নির্মাণের পরিবর্তে একটি বড় সমন্বিত ভবন নির্মাণ করা উচিত, যেখানে এক ছাদের নিচে সব সরকারি সেবা পাওয়া যাবে।

তিনি আরও বলেন, নাগরিকদের যেন বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে বেড়াতে না হয় এবং সরকারি জমির অপচয় কমানো যায়, সেদিকে গুরুত্ব দিতে হবে।

নির্বাচন কমিশনের ডেটা সেন্টার ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ডেটা সেন্টারগুলো বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে না রেখে একটি নির্দিষ্ট ও সুরক্ষিত স্থানে সমন্বিতভাবে পরিচালনা করা প্রয়োজন।

পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য সচিব ড. কাইয়ুম আরা বেগম বলেন, প্রকল্পটির ব্যয় ৫০ কোটি টাকার বেশি হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী একনেক সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়েছিল। তিনি জানান, উপযুক্ত অবকাঠামো গড়ে উঠলে নির্বাচন কমিশনের মাঠপর্যায়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং নাগরিক সেবা আরও নির্ভুল ও কার্যকর হবে।

প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও মেট্রোপলিটন এলাকায় নির্বাচন অফিস ও সার্ভার স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এর মধ্যে গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, টাঙ্গাইল, বগুড়া, রাজশাহী, খুলনা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ একাধিক জেলা অন্তর্ভুক্ত ছিল।

Link copied!