বৃহস্পতিবার ১৪, মে ২০২৬

১৪ মে ২০২৬, ০৭:১৭ পিএম

‘একুশ’ শুদ্ধপ্রাণের আলো

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩৯ এএম

1725

ফেব্রুয়ারি মাস অন্য মাসের চেয়ে

 

পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী আমাদের ভাষাকে কলুষিত করে আমাদের চির দাসত্বের বন্ধনে আটকে রাখতে চেয়েও পারেনি। কারণ বীর বাঙালিদের রক্তে রঞ্জিত হয়ে বাংলা ভাষা, মায়ের ভাষা বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। 

339907944_526965532960471_7446636789574081263_n.jpg
Write caption here...

বর্ধমান হাউজ প্রাঙ্গণের বটতলায় এক টুকরো চটের ওপর কলকাতা থেকে আনা ৩২টি বই সাজিয়ে যে গ্রন্থমেলার গোড়াপত্তন করেছিলেন চিত্তরঞ্জন সাহা তা এখন বাংলা একাডেমি থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানজুড়ে সব মানুষের মনে স্থান করে নিয়েছে।

১৯৭২ থেকে ১৯৭৬ পর্যন্ত তিনি একাই গ্রন্থমেলা চালিয়ে যান। এ ৩২টি বই ছিল চিত্তরঞ্জন সাহা প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন বাংলা সাহিত্য পরিষদ (বর্তমানে মুক্তধারা প্রকাশনী) থেকে প্রকাশিত বাংলাদেশি শরণার্থী লেখকদের লেখা বই। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রকাশনা শিল্পের প্রথম অবদান ছিল সেই বইগুলো। 

১৯৭৮ সালে বাংলা একাডেমির তৎকালীন মহাপরিচালক ড. আশরাফ সিদ্দিকী বাংলা একাডেমিকে মেলার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত করেন। ১৯৭৯ সালে মেলার সঙ্গে যুক্ত হয় চিত্তরঞ্জন সাহা কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ পুস্তক বিক্রেতা ও প্রকাশক সমিতি। ১৯৮৩ সালে কাজী মুহম্মদ মনজুরে মওলা বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবে বাংলা একাডেমিতে প্রথম 'অমর একুশে গ্রন্থমেলা' আয়োজন সম্পন্ন করেন।

লেখক-পাঠক-প্রকাশকসহ সব বইপ্রেমীর মহামিলনের মাস এ ফেব্রুয়ারি। হৃদবন্ধনের মেলা, জাতীয় চেতনার মেলা, ঐতিহ্যের মেলা এক কথায় এ যে আমাদের 'শুদ্ধপ্রাণের আলো জ্বালা' প্রাণের মেলা। এ মেলার সঙ্গে জড়িয়ে আছে হাজার বছরের বাঙালির ঐতিহ্য, আবেগ-আকাঙ্ক্ষা, অহঙ্কার, ত্যাগ, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভালোবাসার প্রতীক। এ বছর মেলা শুরু হবে ২৫ ফেব্রুয়ারি, চলবে ২৫ মার্চ পর্যন্ত। বই, শুধু বই নিয়ে সবাই মেতে উঠবে। প্রিয় লেখক ও প্রিয় বই নিয়ে পাঠকদের আগ্রহের কোনো কমতি থাকেনা। সৃজনশীল মানুষের পদচারণায় মুখরিত থাকবে মেলা প্রাঙ্গণ। দেখা হয়, কথা হয়, আবার আড্ডাও হয় দূর-দূরান্তের কবি, লেখক, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, নাট্যকারসহ প্রথিতযশা সব মানুষের সঙ্গে। 

অটোগ্রাফ দেয়া-নেয়া, নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন হবে মাসজুড়ে। শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন একে অন্যের সঙ্গে। বই হোক হৃদয়ের খোরাক, ভালোবাসার প্রতীক। আলোকিত মানুষ হয়ে সমাজের ক্লেশ দূর করতে প্রেরণা জোগায় বই। শুদ্ধপ্রাণের এ মেলায় সবাইকে আহ্বান জানাই, হানাহানি বন্ধ করে হৃদয়ে শুভবুদ্ধির জাগ্রত করার। জয়তু একুশে গ্রন্থমেলা, জয়তু শুদ্ধপ্রাণের মিলনমেলা।

জ্যোতিষ সমাদ্দার বাবু, সাংবাদিক ও সংগঠক

Link copied!