প্রকাশিত: ১৬ মার্চ ২০২৬, ১২:২৯ পিএম
17
রবিবার ২২, মার্চ ২০২৬ -- : -- --
ঘরের মাঠে আবারও দাপট দেখালো বাংলাদেশ। শ্বাসরুদ্ধকর এক লড়াইয়ে পাকিস্তানকে ১১ রানে পরাজিত করে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে নিজেদের করে নিল মেহেদী হাসান মিরাজের দল। তাসকিন আহমেদের আগুনঝরা বোলিং আর তানজিদ হাসান তামিমের অভিষেক শতকে ভর করে ঐতিহাসিক এই জয় তুলে নেয় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এর মাধ্যমে ২০১৫ সালের পর পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা দ্বিতীয় দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করল বাংলাদেশ।
তানজিদের সেঞ্চুরি ও লড়াকু পুঁজি মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাটিং করতে নামে বাংলাদেশ। দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও সাইফ হাসানের ব্যাটে উড়ন্ত সূচনা পায় স্বাগতিকরা। উদ্বোধনী জুটিতেই আসে ১০৫ রান। সাইফ ৩৬ রান করে সাজঘরে ফিরলেও এক প্রান্ত আগলে রেখে পাকিস্তানি বোলারদের শাসন করেন তানজিদ। মাত্র ৯৮ বলে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন এই তরুণ তুর্কি। তার ১০৭ রানের লড়াকু ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ৭টি দৃষ্টিনন্দন ছক্কার মার।
মধ্যভাগে লিটন দাসের ৪১ এবং শেষদিকে তাওহীদ হৃদয়ের অপরাজিত ৪৮ রানের ইনিংসে ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় বাংলাদেশ। পাকিস্তানের হয়ে হারিস রউফ ৩টি উইকেট শিকার করেন।
তাসকিন-নাহিদের তোপ ও সালমানের লড়াই ২৯১ রানের লক্ষ্যে তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বাংলাদেশি পেসারদের তোপের মুখে পড়ে পাকিস্তান। ইনিংসের প্রথম ওভারেই সাহিবজাদা ফারহানকে (৬) বিদায় করেন তাসকিন আহমেদ। পরের ওভারে নাহিদ রানা ফেরান মাজ সাদাকাতকে। দলীয় ১৭ রানেই অধিনায়ক রিজওয়ানকে (৪) বোল্ড করে গ্যালারিতে উন্মাদনা ছড়িয়ে দেন তাসকিন।
দ্রুত ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া পাকিস্তানকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন আব্দুল সামাদ ও গাজি ঘুরি। তবে তাদের প্রতিরোধ দীর্ঘস্থায়ী হতে দেননি বাংলাদেশি বোলাররা। এক পর্যায়ে ১০০ রানের আগেই ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে সফরকারীরা। সেখান থেকে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন সালমান আলি আগা। অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা সাদ মাসুদকে (৩৮) নিয়ে ৭৯ রানের জুটি গড়েন তিনি। মাসুদকে মুস্তাফিজ ফেরানোর পর সালমান একাই লড়াই চালিয়ে যান এবং দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি তুলে নেন।
শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চ ম্যাচের শেষ দিকে শাহীন শাহ আফ্রিদিকে নিয়ে জয়ের স্বপ্ন দেখছিলেন সালমান। তবে দলীয় ১০৬ রানে তাসকিনের শিকার হয়ে সালমান ফিরলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের হাতে চলে আসে। শেষ ওভারে জয়ের জন্য পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল কঠিন সমীকরণ। শাহীন আফ্রিদি দুটি ছক্কা হাঁকিয়ে শঙ্কা জাগালেও শেষ পর্যন্ত ২৭৯ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান।
বাংলাদেশের পক্ষে বল হাতে অদম্য ছিলেন তাসকিন আহমেদ; তিনি নেন ৪টি উইকেট। এছাড়া মুস্তাফিজুর রহমান ৩টি, নাহিদ রানা ২টি এবং রিশাদ হোসেন ১টি উইকেট দখল করেন। ব্যাটে-বলে অনবদ্য পারফরম্যান্সে সিরিজ জয়ের উৎসবে মাতে মিরপুর।