প্রকাশিত: ১৭ মার্চ ২০২৬, ১২:৩৫ পিএম
21
রবিবার ২২, মার্চ ২০২৬ -- : -- --
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরানের সাথে চলমান সংঘাতের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ সচল রাখতে মিত্র দেশগুলোর প্রতি যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেই আহ্বানে সাড়া না দিয়ে সরাসরি তা প্রত্যাখ্যান করেছে ইউরোপীয় দেশগুলো। এতে মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও তার দীর্ঘদিনের মিত্রদের মধ্যে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সোমবার হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইউরোপীয় দেশগুলোর ‘উদ্যমহীন’ ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাদের তেল আসে, সেই দেশগুলোকেই এই পথ নিরাপদ রাখার দায়িত্ব নিতে হবে। আমি দেখতে চাই ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং জার্মানি পূর্ণ উদ্যম নিয়ে আমাদের সাথে যোগ দিচ্ছে।” এমনকি এই আহ্বানে সাড়া না দিলে ন্যাটো (NATO) জোটের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হতে পারে বলেও প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
তবে ট্রাম্পের এই কড়া বার্তার পরপরই জার্মানি ও ফ্রান্স তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস বার্লিনে সাংবাদিকদের বলেন, “এটি আমাদের যুদ্ধ নয়, আমরা এটি শুরু করিনি। আমরা কূটনৈতিক সমাধান চাই। এই অঞ্চলে আরও যুদ্ধজাহাজ পাঠালে উত্তেজনা কমবে না বরং আরও বাড়বে।” অন্যদিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, তারা নৌপথ সচল রাখতে একটি ‘কার্যকর পরিকল্পনা’ নিয়ে কাজ করছেন, তবে ন্যাটোর ব্যানারে কোনো সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশ নিতে আগ্রহী নন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলা পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ করা হয়। ইরান ইতিমধ্যেই হুমকি দিয়েছে যে, মার্কিন ও ইসরায়েলি জাহাজগুলোর জন্য এই পথ বন্ধ রাখা হবে। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, মার্কিন হামলায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা অনেকাংশে ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা দমে যায়নি এবং তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) জানিয়েছে, তারা এখনই লোহিত সাগরের বর্তমান নৌ-মিশনকে হরমুজ প্রণালী পর্যন্ত বিস্তৃত করার কোনো পরিকল্পনা করছে না। ইউরোপের এই অস্বীকৃতিকে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থার কারণে ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের মতো এশীয় দেশগুলোও গভীর উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট ও মুদ্রাস্ফীতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।