প্রকাশিত: ২৪ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৯ এএম
28
শনিবার ২৮, মার্চ ২০২৬ -- : -- --
বেপরোয়া বাইক চালনা
রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর) এর জরুরি বিভাগে ঈদের ছুটিতে আহত রোগীদের চাপ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।
অধিকাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার তরুণ-তরুণী। হাসপাতাল সূত্র জানায়, ঈদের আগে ও পরে কয়েক দিনের ব্যবধানে অন্তত ১৭৭ জন আহত হয়ে এখানে ভর্তি হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগেরই হাত-পা ভেঙে গেছে।
ফেনী সদর থেকে আসা তানজিদুল ইসলাম রাহিম বর্তমানে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন। রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তার বাম পায়ের হাড় ভেঙে যায় এবং মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জরুরি বিভাগের স্ট্রেচারে শুয়ে তিনি যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন।
হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, প্রতিদিনই বাড়ছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত রোগীর সংখ্যা। স্বল্প জনবল নিয়ে চিকিৎসা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। শুধু তরুণ নয়, মোটরসাইকেলের আরোহী হিসেবে থাকা তরুণীরাও গুরুতর আহত হয়ে ভর্তি হচ্ছেন।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের ২১ বছর বয়সী বিজয় ইসলাম ঈদের দিন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মোটরসাইকেল চালানোর সময় দুর্ঘটনার শিকার হন। অতিরিক্ত গতির কারণে একটি অটোরিকশা ইউটার্ন নেওয়ার সময় তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের আইল্যান্ডে ধাক্কা দেন। এতে তার ডান পায়ের হাড় কয়েক টুকরো হয়ে যায়। পরে অস্ত্রোপচার করে সেখানে রড বসানো হয়েছে।
লক্ষ্মীপুর থেকে আসা আরেক তরুণ নতুন মোটরসাইকেলে বান্ধবীকে নিয়ে ঘুরতে বের হয়ে দুর্ঘটনায় পড়েন। দ্রুতগতির কারণে সামনে থাকা অটোরিকশা এড়িয়ে যেতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারান। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং তার ডান পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তার সঙ্গে থাকা তরুণীর পায়ের হাড় ভেঙে গেছে এবং তিনি বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এছাড়া লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের মোহন আলম (২৫) ডান হাতের কনুই ভেঙে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে আসা শিকদার ইউসুফ (২০) মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার সংঘর্ষে তার বুড়ো আঙুল হারিয়েছেন।
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার দুই বন্ধু সুমন ও আতিক ঈদের নামাজ শেষে মোটরসাইকেলে ঘুরতে বের হয়ে দুর্ঘটনায় পড়েন। ফাঁকা সড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ছিটকে পড়ে দুজনই গুরুতর আহত হন। সুমনের বাম পায়ের হাড় ভেঙেছে, আর আতিকের অবস্থা আরও আশঙ্কাজনক।
চিকিৎসকদের মতে, ঈদের ছুটিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক ফাঁকা থাকায় অনেকেই বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালান। অদক্ষ চালনা, অতিরিক্ত আরোহী বহন এবং ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংয়ের কারণেই এসব দুর্ঘটনা বাড়ছে।
নিটোরের যুগ্ম পরিচালক মো. মোজাফফর হোসেন বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে ১৭৭ জন তরুণ গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। অনেকের অবস্থা এতটাই গুরুতর যে কারও কারও অঙ্গচ্ছেদ করতে হয়েছে। তিনি সবাইকে সতর্ক করে বলেন, আনন্দ করতে গিয়ে জীবনকে ঝুঁকিতে না ফেলে সচেতনভাবে মোটরসাইকেল চালানো জরুরি।