প্রকাশিত: ২৫ মার্চ ২০২৬, ০৭:৪৭ পিএম
6
শনিবার ২৮, মার্চ ২০২৬ -- : -- --
নবীন ফ্যাশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসান নবীনের অভিযোগ
কম দামে পাঞ্জাবি ও পায়জামা বিক্রি করে আলোচিত নবীন ফ্যাশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এনামুল হাসান নবীন সিন্ডিকেটের হুমকি ও চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। মঙ্গলবার রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে বিদেশে পাড়ি জমান তিনি।
এনামুল হাসান নবীন নবীন হাশেমি নামেও পরিচিত। দেশ ছাড়ার বিষয়টি তিনি নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিশ্চিত করেন।
বিমানবন্দর থেকে একটি ছবি প্রকাশ করে তিনি লেখেন, সিংহের মতো বাঁচতে চাই, কিন্তু সিন্ডিকেটের গুলিতে সন্তানদের এতিম করতে চাই না। তাই দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে হয়তো একদিন ফিরব, ইনশাআল্লাহ।
এর আগে একই দিন বিকেলে রাজধানীর মগবাজারের বিশাল সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দেশ ছাড়ার ঘোষণা দেন তিনি। দোকান বন্ধ করে দেয়ার প্রতিবাদে ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। নবীন হাশেমি অভিযোগ করেন, কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন নম্বর থেকে তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তাকে বলা হয়েছে, তার কাছে থাকা ভিডিও মুছে ফেলতে, অন্যথায় তার সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে একটি দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, প্রবাস জীবন শেষে করোনার সময় দেশে ফিরে ব্যবসা শুরু করেন। তাদের লক্ষ্য ছিল কম দামে ভালো মানের পণ্য গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের একটি অংশ গরিব ও অসহায় মানুষের কল্যাণে ব্যয় করা হতো।
নবীন হাশেমি আরও জানান, তার প্রতিষ্ঠানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, হিজড়া সম্প্রদায় এবং মাদকাসক্তি থেকে ফিরে আসা মানুষ কাজ করেন। এ কারণে সরবরাহকারীরাও কম দামে পণ্য সরবরাহ করতেন, ফলে তারা প্রায় ৩০০ টাকায় পাঞ্জাবি ও পায়জামা বিক্রি করতে সক্ষম হন। তার অভিযোগ, পাশের দোকান ‘প্রিন্স’-এর মালিক মাইকেলসহ একটি ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে তাদের দোকান বন্ধ করে দেয় এবং ক্রেতাদেরও হয়রানি করে।
সিন্ডিকেটের পক্ষ থেকে শর্ত দেওয়া হয় এই মার্কেটে ৪ হাজার ৫০০ টাকার কমে পাঞ্জাবি এবং ১ হাজার ৫০০ টাকার কমে পায়জামা বিক্রি করা যাবে না। সরকারের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে নবীন হাশেমি বলেন, নানা বাধা ও হুমকির মধ্যেও ব্যবসা পরিচালনা করলেও কখনো কোনো সহায়তা পাননি। সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করতে গেলেই ভয়ভীতি ও নিপীড়নের শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এমনকি স্থানীয থানা ওসিও তাকে সহযোগিতা করেননি।