শনিবার ২৮, মার্চ ২০২৬

শনিবার ২৮, মার্চ ২০২৬ -- : -- --

হরিরামপুরে কালবৈশাখী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড দেড়শ বছরের বটগাছ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ মার্চ ২০২৬, ০৫:২৫ পিএম

5

দেড়শ বছরের বটগাছ

‎মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে কালবৈশাখী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়েছে দেড়শ বছরের একটি বটগাছ। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের গোপীনাথপুর চরপাড়া এলাকায়।‎বুধবার (‎২৫ মার্চ) সন্ধ্যার পরে হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে রাস্তার পাশে দেড়শ বছর ধরে বেড়ে উঠা এই বটগাছটির গোড়া উপড়ে যায়। এতে বটগাছের পার্শ্ববর্তী দুটি বাড়ির ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ছিঁড়ে যায় বৈদ্যুতিক তার, ভেঙে যায় বৈদ্যুতিক মিটার।

 
‎সরেজমিনে দেখা যায়, প্রত্যন্ত গ্রামের সরকারি রাস্তার পাশে প্রায় দেড়শ বছর ধরে বেড়ে বটগাছটি। ডালপালা ছড়িয়ে পরেছে চারপাশে। তবে গাছের গোড়ায় মাটি কম থাকায় কালবৈশাখী ঝড়ে গাছটি ভেঙে পরে। এতে বট গাছের দুটি ডাল পাশের দুই বাড়ি ঘরে আঁচড়ে পরে। এতে করে দুটি বাড়ির ঘরের বেড়া ভেঙে যায়। বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে যায়। ফলে বিদ্যুৎ সংযোগহীন হয়ে পরে বাড়িগুলোতে।

‎ওই গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের রফিকুল ইসলাম জানান, বুধবার সন্ধ্যার পরে হঠাৎ করেই কালবৈশাখী ঝড় শুরু হয়। কিছুক্ষণ পরেই আমার বাড়ির পাশের বট গাছটি উপড়ে যায়। এতে করে বট গাছের ডাল পরে আমার ঘরের বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে যায়। গাছের ডালের আঘাতে আমার ঘরের বাহিরে লাগানো মিটার ভেঙে যায়। নতুন ঘরের ইটের গাথনি ভেঙে বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়। সরকারি গাছ বলে আমরা গাছটি সরাতে পারছি না। আর ক্ষতিগ্রস্ত ঘরও মেরামত করতে পারছি না। প্রায় দেড়শ বছরের পুরাতন বটগাছ এটি। তাই প্রশাসনের কাছে দাবি যতদ্রুত সম্ভব গাছটি যেন অপসারণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।


‎ক্ষতিগ্রস্ত আরেক পরিবার সোহরাব হোসেন জানান, বটগাছ ভেঙে আমার বাড়ির প্রাচীরের টিনের ভেড়া ভেঙে গেছে। ছোট একটি ঘরের ওপর ডাল এসে পরে সে ঘরেরও ক্ষতি হয়েছে। তবে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে আমার গরুর খামার। এখন সরকারি গাছ, প্রশাসন উদ্যোগ না নিলে তো আমরা সরাতে পারছি না। গাছটি তাড়াতাড়ি সরালে আমাদের উপকার হয়।

 
‎স্থানীয় যুবক লিটন জানান, আমাদের গ্রামের প্রায় দেড়শ বছরের ঐতিহ্য এই বটগাছ। অনেক পথচারীরা এখানে এসে বিশ্রাম নিতেন। গতকাল কালবৈশাখী ঝড়ে গাছটি উপড়ে গেছে। এতে দুটি পরিবারের বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে আল্লাহ রহমতে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। এখন আমাদের দাবি, যতদ্রুত সম্ভব প্রশাসন যেন দ্রুত গাছটি অপসারণ করেন।


‎এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা আক্তার জানান, বটগাছে ভাঙার বিষয়টি আমি শুনেছি। যেহেতু এটা সরকারি গাছ। তাই নিয়মকানুন অনুযায়ী যতদ্রুত সম্ভব এটাকে অপসারণ করা যায়, তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, ইনশাআল্লাহ।

Link copied!