প্রকাশিত: ২৫ মার্চ ২০২৬, ১০:৫৫ পিএম
20
শনিবার ২৮, মার্চ ২০২৬ -- : -- --
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাস নদীতে
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় যাত্রীবাহী একটি বাস পদ্মা নদীতে তলিয়ে গিয়ে অন্তত দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।
এ ঘটনায় আরও অনেক যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উদ্বেগ ও শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ৩ নম্বর পয়েন্টে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস ফেরিতে ওঠার সময় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুন থেকে সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে তলিয়ে যায়।
দুর্ঘটনার পরপরই যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জীবন বাঁচাতে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে অন্তত ১১ জন যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। বাসটিতে প্রায় ৪৫ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে, যাদের মধ্যে কয়েকজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন রাজবাড়ী পৌরসভার ভবানীপুর এলাকার বাসিন্দা রেহেনা আক্তার (৬০) এবং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পাংশা জোনাল অফিসের কর্মকর্তা মর্জিনা বেগম (৫৬)। নিহত রেহেনা আক্তারের ছেলে আহনাফ রায়হান ও নাতি এখনও নিখোঁজ রয়েছেন, যা পরিবারের জন্য আরও গভীর শোকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জেলার সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদ জানান, দুর্ঘটনার পর তিনজন নারীকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন এবং একজনকে আহত অবস্থায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় তাৎক্ষণিক উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়। গুরুতর আহত ১১ জনকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। নিখোঁজদের অনেকেই ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরছিলেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলও উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছে। তবে বাসটি যেখানে ডুবে গেছে, সেখানে পানির গভীরতা বেশি হওয়ায় উদ্ধারকাজে বেগ পেতে হচ্ছে। এখনো বাসটির সঠিক অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া ইউনিটের সমন্বয়ে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে গেছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তা করছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।