প্রকাশিত: ২৬ মার্চ ২০২৬, ০৮:২৬ এএম
19
শনিবার ২৮, মার্চ ২০২৬ -- : -- --
ফেরিঘাটে উদ্ধার করা বাস, হাসপাতালে মরদেহের সারি
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া সকল মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে। এর মধ্যে ১৫টি মরদেহ ইতোমধ্যে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এখনও অন্তত ১৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যা বেশি। মোট নিহতদের মধ্যে ১৪ জন নারী ও শিশু এবং ৬ জন পুরুষ। দুর্ঘটনার পরপরই শুরু হওয়া উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল, কোস্ট গার্ড, সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের সদস্যরা যৌথভাবে কাজ করছেন। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধার তৎপরতায় সহায়তা করছেন।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ভোরে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রায় সাত ঘণ্টা পর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’র মাধ্যমে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া বাসটি টেনে তোলা হয়। উদ্ধার অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে এবং নিখোঁজদের সন্ধানে তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
এ ঘটনায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব জানিয়েছেন, নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান চলমান থাকবে এবং নিহতদের পরিবারের জন্য স্থায়ী পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একইসঙ্গে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এর আগে প্রতিমন্ত্রী এক বার্তায় জানান, এ দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং দ্রুততম সময়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও জানান, এই দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতিতে গভীর শোক প্রকাশ করা হচ্ছে। নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে একটি যাত্রীবাহী বাস ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। বাসটিতে প্রায় অর্ধশত যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কয়েকজনকে সাঁতরে উপরে উঠতে দেখা যায়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।