প্রকাশিত: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১২ পিএম
1707
২৫ মে ২০২৬, ০৩:৫৮ পিএম
বাংলাদেশের প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে সবার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চায়, তবে সেই সম্পর্ক কখনোই দাসত্ব বা একতরফা নির্ভরশীলতায় রূপ নেওয়া উচিত নয়।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক হতে হবে সমমর্যাদা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে। তিনি মন্তব্য করেন, বন্ধুত্ব হবে—কিন্তু তা কখনোই ‘স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের’ মতো হওয়া উচিত নয়। অর্থাৎ কোনো পক্ষের ওপর অন্য পক্ষের আধিপত্য বা নিয়ন্ত্রণ থাকা চলবে না। জাতীয় স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে সম্পর্ক পরিচালনার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তার বক্তব্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর রাজনৈতিক দর্শনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান চাটুকারিতা অপছন্দ করতেন এবং সমালোচনাকে গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হিসেবে বিবেচনা করতেন। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ তাঁর দেওয়া আহ্বানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেটি ছিল আত্মরক্ষার নয়, বরং দখলদার বাহিনীকে প্রতিরোধের ডাক।
বর্তমান প্রজন্মের একটি অংশ শহীদ জিয়ার অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়ন করছে না বলেও আক্ষেপ করেন তিনি। তার মতে, ইতিহাসের সঠিক মূল্যায়ন ছাড়া বর্তমান রাজনীতি সুসংহত হওয়া সম্ভব নয়।
দেশের সমসাময়িক রাজনীতি নিয়ে তিনি বলেন, স্বাধীনতা অর্জিত হলেও প্রকৃত মুক্তির লক্ষ্য এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। পরিবর্তিত বিশ্ব বাস্তবতা ও নতুন প্রজন্মের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া-এর নেতৃত্বের প্রশংসা করে গয়েশ্বর রায় বলেন, গণতন্ত্রের প্রশ্নে তিনি কখনো আপস করেননি। নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তিনি দেশত্যাগ না করে রাজনৈতিক সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। তার ভাষায়, জনগণের কাছে খালেদা জিয়া ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ হিসেবে পরিচিত।
তিনি আরও বলেন, অতীতের সংকটময় সময়ে তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীরাই দলের শক্তি হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, কঠিন সময়ে কিছু রাজনৈতিক মিত্র প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখেনি।
জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এটি কোনো একক দলের অর্জন নয়; বরং সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণে এই আন্দোলন সফল হয়েছে। বিএনপি দ্রুত এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলনসহ ইতিহাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় তুলে ধরে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, এসব সংগ্রামের মূল লক্ষ্য ছিল বঞ্চনা ও শোষণ থেকে মুক্তি অর্জন। তবে বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় জাতীয় মর্যাদা বজায় রেখে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালনা করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
শেষে তিনি দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, কেবল নেতাদের নাম উচ্চারণ করলেই হবে না; তাদের আদর্শ বাস্তবায়নের মাধ্যমেই প্রকৃত দেশপ্রেম প্রমাণ করতে হবে।