শুক্রবার ১৫, মে ২০২৬

১৫ মে ২০২৬, ১২:০৭ এএম

জামালপুরের ‘ক্রিস গেইল’ ঘিরে কোরবানির বাজারে চাঞ্চল্য, দাম চাওয়া হচ্ছে ৬ লাখ টাকা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ মে ২০২৬, ১১:৪৫ এএম

1701

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে জামালপুরে ব্যাপক আলোচনায় এসেছে বিশাল আকৃতির একটি কোরবানির গরু, যার নাম রাখা হয়েছে ‘ক্রিস গেইল’। জামালপুর পৌর শহরের পাথালিয়া এলাকার ময়না এগ্রো ফার্মে লালন-পালন করা এই গরুটির ওজন প্রায় ৮০০ কেজি। গরুটি দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন বিভিন্ন এলাকার ক্রেতা ও দর্শনার্থীরা।

খামার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ময়না এগ্রো ফার্মে বর্তমানে মোট ২৬টি গরু রয়েছে। তবে সব গরুর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নেপালি গির জাতের এই বিশাল গরুটি। মালিক মো. দিয়া মিয়া তার প্রিয় ক্রিকেটার Chris Gayle–এর নাম অনুসারে গরুটির নাম রেখেছেন ‘ক্রিস গেইল’।

খামারের মালিক মো. দিয়া মিয়া জানান, প্রায় তিন বছর আগে মাত্র ৬৫ হাজার টাকায় একটি খামারির কাছ থেকে গরুটি কেনা হয়। তখন গরুটির বয়স ছিল প্রায় ছয় মাস। দীর্ঘ তিন বছর যত্ন ও প্রাকৃতিক খাবারে লালন-পালনের পর বর্তমানে গরুটির উচ্চতা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি এবং দৈর্ঘ্য ৬ ফুট ৬ ইঞ্চি।

সরেজমিনে দেখা যায়, গাঢ় লালচে-বাদামী রঙের গরুটি বেশ শক্তিশালী ও কিছুটা রাগী স্বভাবের। গলার অংশে ছোট ছোট কালো ও বাদামী দাগ রয়েছে। শিং ছোট হলেও পেছনের দিকে বাঁকানো। পরিচিত মানুষদের সঙ্গে শান্ত থাকলেও অপরিচিত কাউকে কাছে দেখলে তেড়ে যাওয়ার প্রবণতা রয়েছে গরুটির।

খামার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘ক্রিস গেইলকে’ সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবার খাওয়ানো হয়। প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে তাকে সাইলেজ, ঘাস এবং গমের ভুসি দেওয়া হয়। পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী গোসল ও পরিচর্যার ব্যবস্থাও রয়েছে। গরুটির দেখাশোনার দায়িত্বে রয়েছেন খামারের কর্মচারী ইমরান হোসেন।

ইমরান হোসেন বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে গরুর পরিচর্যার কাজ করছেন এবং গরুগুলোকে নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসেন। ঈদের সময় গরুগুলো বিক্রি হয়ে গেলে তার খুব কষ্ট হয় বলেও জানান তিনি।

খামারের মালিক দিয়া মিয়া বলেন, ‘ক্রিস গেইল’ শুধু একটি গরু নয়, বরং পরিবারের সদস্যের মতো। গরুটিকে কখনো মারধর করা হয়নি এবং অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে বড় করা হয়েছে। তিনি গরুটির দাম ৬ লাখ টাকা চাইলেও এখন পর্যন্ত প্রত্যাশিত মূল্য না পাওয়ায় বিক্রি করেননি। প্রয়োজন হলে ঈদের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন বলেও জানান তিনি।

গরুটি দেখতে আসা এক ক্রেতা আব্বাস বেপারি বলেন, গরুটির গঠন ও মাংসের পরিমাণ ভালো হলেও চাওয়া দাম তার কাছে বেশি মনে হয়েছে। ব্যবসায়িকভাবে লাভজনক না হওয়ায় তিনি গরুটি কেনার সিদ্ধান্ত নেননি।

জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা ডা. এ.টি.এম হাবিবুর রহমান জানান, ‘ক্রিস গেইল’ সম্পর্কে তারা অবগত রয়েছেন এবং মেডিকেল টিম খামারটি পরিদর্শন করেছে। তিনি বলেন, এ বছর জামালপুর জেলায় মোট ১ লাখ ৭ হাজার ৬৫টি কোরবানির পশু প্রস্তুত রয়েছে। জেলার চাহিদা পূরণ করে অতিরিক্ত প্রায় ২৫ হাজার পশু দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও জানান, খামারিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা দিতে প্রাণিসম্পদ বিভাগের টিম নিয়মিত মাঠপর্যায়ে কাজ করছে।

Link copied!