সোমবার ২৫, মে ২০২৬

২৫ মে ২০২৬, ০৫:২৭ পিএম

চামড়া খাত থেকে ১২ বিলিয়ন ডলার আয় সম্ভব: শিল্পমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭ মে ২০২৬, ১১:৩০ এএম

1694

শিল্পমন্ত্রী

দেশের চামড়া শিল্পকে সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাত উল্লেখ করে শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির বলেছেন, সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এ খাত থেকে বছরে ১২ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব।

শনিবার সাভারের হেমায়েতপুরে অবস্থিত চামড়া শিল্পনগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগার (সিইটিপি) পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে বিসিক কার্যালয়ে ট্যানারি মালিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তিনি।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি শিল্প সাভারে স্থানান্তরের পুরো প্রক্রিয়া ছিল অপরিকল্পিত ও অব্যবস্থাপনায় ভরা। ফলে সম্ভাবনাময় এই শিল্পখাত প্রত্যাশিত উন্নয়ন অর্জন করতে পারেনি। বিগত কয়েক বছরে চামড়া শিল্প নানা সংকট ও ক্ষতির মুখে পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, দেশে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করা হয়। এসব চামড়া আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে প্রক্রিয়াজাত ও রপ্তানি করা গেলে দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখা সম্ভব হবে।

আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সাভারের চামড়া শিল্পনগরীতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগের কথাও তুলে ধরেন শিল্পমন্ত্রী। তিনি জানান, বর্তমানে সিইটিপির সক্ষমতা প্রতিদিন ১৪ হাজার থেকে ১৮ হাজার সিপিএম বর্জ্য পরিশোধনের মধ্যে সীমাবদ্ধ। তবে কোরবানির মৌসুমে বর্জ্যের পরিমাণ কয়েকগুণ বেড়ে গিয়ে প্রায় ৪৫ হাজার সিপিএমে পৌঁছায়।

এতে কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগারের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয় এবং কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ঈদকে ঘিরে ট্যানারি শিল্পে উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়া স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু সেই অনুযায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে আর্থিক ও প্রযুক্তিগতভাবে সক্ষম ট্যানারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজস্ব ইটিপি স্থাপনে উৎসাহিত করা হবে। এতে কেন্দ্রীয় সিইটিপির ওপর চাপ কমবে এবং পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ আরও কার্যকর হবে। প্রয়োজন হলে সরকার এ বিষয়ে নীতিগত ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করবে বলেও জানান তিনি।

চামড়া শিল্পের পরিবেশগত সংকট নিরসনে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে শিল্পমন্ত্রী বলেন, সিইটিপির প্রযুক্তিগত ও ব্যবস্থাপনাগত সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ট্যানারি শিল্প গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

মতবিনিময় সভায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিসিক কর্তৃপক্ষ এবং বিভিন্ন ট্যানারি মালিক উপস্থিত ছিলেন।

Link copied!