প্রকাশিত: ১৭ মে ২০২৬, ১২:১৬ পিএম
1691
২৫ মে ২০২৬, ০২:৩৪ পিএম
মির্জা ফখরুল
বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন এবং সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত সরকারের প্রতি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বিভাজনমূলক ও উসকানিমূলক বক্তব্য পরিহারের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে দায়িত্বশীল আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শনিবার (১৭ মে) রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘ভাসানী জনশক্তি পার্টি’ আয়োজিত ফারাক্কা লংমার্চ দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যেসব বক্তব্য বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে, সেগুলো দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের জন্য ইতিবাচক নয়। তিনি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বিভাজনের পরিবেশ সৃষ্টি না করে পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ভারত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রতিবেশী রাষ্ট্র এবং বাংলাদেশ সবসময় শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তবে সীমান্তে নিরীহ বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সীমান্ত হত্যা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জন্যও তিনি জোর দাবি জানান।
গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশের স্বার্থ, নদীর ন্যায্য হিস্যা এবং পরিবেশ রক্ষার প্রশ্নে সব রাজনৈতিক দল ও জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এটি শুধু রাজনৈতিক কোনো ইস্যু নয়, বরং জাতীয় অস্তিত্বের বিষয়।
মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অন্যায় ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার এক অনন্য উদাহরণ ছিল সেই আন্দোলন। বর্তমান প্রজন্মের কাছেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক বার্তা বহন করে।
পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের সিদ্ধান্তকে সময়োপযোগী উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের লবণাক্ততা, পানির সংকট এবং পরিবেশগত বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলায় বড় ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে শুরু হওয়া খাল খনন কর্মসূচিকে নতুনভাবে চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বর্ষার পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে কৃষি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কাজ করা হবে।
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণ সাম্প্রতিক নির্বাচনের মাধ্যমে প্রমাণ করেছে তারা উগ্রবাদ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি চায় না। অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অত্যন্ত প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু। সঞ্চালনা করেন দলের মহাসচিব ড. আবু ইউসুফ সেলিম। এতে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
এছাড়া অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাবিদ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। তাদের মধ্যে ছিলেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, সাবেক উপাচার্য ড. জসীম উদ্দিন আহমদসহ আরও অনেকে।