প্রকাশিত: ১৮ মে ২০২৬, ০৪:৫৯ পিএম
1694
২৬ মে ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম
ঢাকা-গাজীপুর বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প বাতিল বা ভেঙে না ফেলে দ্রুত চালুর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)। সংগঠনটির মতে, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এ প্রকল্প দেশের নগর পরিকল্পনা ও পরিবহন ব্যবস্থাপনার বড় ব্যর্থতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
সোমবার রাজধানীর বাংলামোটরে বিআইপির কনফারেন্স হলে আয়োজিত “গণপরিবহন নির্ভর নগর : ঢাকা-গাজীপুর বিআরটির ভবিষ্যৎ” শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন বিআইপির সাধারণ সম্পাদক ও পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক মু. মোসলেহ উদ্দীন হাসান।
তিনি বলেন, বিআরটি কেবল একটি পরিবহন ব্যবস্থা নয়, বরং এটি নগর উন্নয়ন ও পুনর্জাগরণের কার্যকর মাধ্যম। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিআরটি সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং দ্রুত বর্ধনশীল শহরগুলোতে এটি যানজট কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৭৪ সালে ব্রাজিলের কুরিচিবা শহরে প্রথম বিআরটি চালু হওয়ার পর বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ১৯১টি শহরে এই ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে।
বিআরটির বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে— আলাদা বাস লেন, প্রিপেইড টিকিটিং ব্যবস্থা, প্ল্যাটফর্ম সমতলে যাত্রী ওঠানামা, অধিক যাত্রী বহনে সক্ষম বাস এবং পরিবহন ও ভূমি ব্যবস্থাপনার সমন্বিত পরিকল্পনা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০০৫ সালে প্রণীত ঢাকার স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যানে গাজীপুর-ঢাকা-কেরানীগঞ্জ রুটে বিআরটি নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। ২০১২ সালে প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও ২০১৬ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো তা চালু করা সম্ভব হয়নি।
বিআইপির দাবি, প্রকল্পের অবকাঠামোগত কাজ প্রায় ৯৭ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। মাত্র তিন শতাংশ কাজ বাকি রয়েছে। তাই এখনই ‘বেসিক বিআরটি’ চালু করা সম্ভব।
সংগঠনটি আরও জানায়, উন্নতমানের বাস সংযোজন করতে অতিরিক্ত দুই থেকে তিনশ কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। আর ইলেকট্রিক বাস চালু করতে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। তবে প্রকল্প বাতিল করলে স্টেশন, র্যাম্প ও অন্যান্য স্থাপনা অপসারণ এবং ক্ষতিপূরণ বাবদ বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হতে পারে।
বিআইপির মতে, বিআরটি চালু হলে যাতায়াতের সময় প্রায় ৩০ শতাংশ কমে যাবে। পাশাপাশি জ্বালানি খরচ ও কার্বন নিঃসরণ কমবে এবং নারী, শিশু ও বয়স্কদের জন্য নিরাপদ ও আরামদায়ক গণপরিবহন নিশ্চিত হবে।
এছাড়া গাজীপুর অঞ্চলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাসন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণেও এ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে সংগঠনটি।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রকল্পটিকে একটি কার্যকর গণপরিবহন ব্যবস্থা হিসেবে গড়ে তোলার পরিবর্তে কেবল অবকাঠামো নির্মাণকেন্দ্রিক প্রকল্পে পরিণত করা হয়েছে। একইসঙ্গে বিআরটি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানকে পর্যাপ্ত সক্ষমতা ছাড়া পরিচালিত করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তারা।
বিআইপি এ সময় ছয় দফা সুপারিশ তুলে ধরে। এর মধ্যে রয়েছে আগামী ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে ডেডিকেটেড লেনসহ বিআরটি চালু করা, পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও নগর পরিকল্পনাবিদদের নিয়ে বিআরটি বোর্ড পুনর্গঠন, গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনকেন্দ্রিক ট্রানজিট ওরিয়েন্টেড ডেভেলপমেন্ট (টিওডি) বাস্তবায়ন এবং ভবিষ্যতে ঢাকা-গাজীপুর-নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলে সমন্বিত বিআরটি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিআইপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক ড. গোলাম রহমান, নগর পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান, পরিকল্পনাবিদ আকতার মাহমুদ এবং গাজীপুর ঐতিহ্য ও উন্নয়ন সংগঠনের সভাপতি শামসুল হকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।