প্রকাশিত: ১৮ মে ২০২৬, ০৫:০৯ পিএম
1695
২৫ মে ২০২৬, ০৫:০৩ পিএম
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সহিংসতামুক্ত ও রক্তপাতহীনভাবে সম্পন্ন করতে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা কামনা করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেছেন, অতীতে স্থানীয় নির্বাচন ঘিরে সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক।
সোমবার (১৮ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসির (আরএফইডি) নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক ও বিদায়ী কমিটির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
সিইসি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে প্রয়োজনীয় আইন ও বিধিবিধান সংস্কারের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতারা নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সক্রিয় সহযোগিতা ছাড়া কোনো নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়।
তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমরাও দলগুলোর সহযোগিতা চাই। প্রয়োজনে আপনারা নিজেদের মধ্যে বসুন, আলোচনা করুন এবং সমাধানে পৌঁছান। আমরা কোনো ধরনের রক্তপাত দেখতে চাই না। আমরা চাই সহিংসতামুক্ত ও শান্তিপূর্ণ স্থানীয় সরকার নির্বাচন।”
স্থানীয় নির্বাচনে অতীতের সহিংসতার প্রসঙ্গ তুলে সিইসি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে একই পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যায় এবং অল্প ব্যবধানের প্রতিযোগিতার কারণে সংঘাতের সৃষ্টি হয়। এসব কারণে স্থানীয় নির্বাচন অনেক সময় প্রাণঘাতী পরিস্থিতির জন্ম দেয়।
তিনি আরও বলেন, নির্দলীয়ভাবে নির্বাচন আয়োজনের কথা থাকলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ইতোমধ্যে নিজেদের প্রার্থীদের মনোনয়নের ঘোষণা দিচ্ছে, যা নির্বাচন কমিশনের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার মতে, দলীয় মালিকানা ও প্রভাব কমাতে দলগুলোর নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া জরুরি।
সিইসি বলেন, “যদি প্রার্থীরা সত্যিকার অর্থে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করতেন, তাহলে দলীয় বিরোধ ও সংঘাত কম হতো। এজন্য রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত পারস্পরিক সমঝোতায় পৌঁছানো। নির্বাচন কমিশন এ ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।”
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল এলাকার সংঘর্ষের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে সামান্য বিরোধও বড় ধরনের সহিংসতায় রূপ নিতে পারে। তাই নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, একটি নির্বাচন ভালোভাবে সম্পন্ন হওয়াই যথেষ্ট নয়; বরং দেশের সব ধরনের নির্বাচনে একটি ইতিবাচক ও গ্রহণযোগ্য সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, “আমরা চাই বাংলাদেশে ভালো নির্বাচনের ধারাবাহিকতা তৈরি হোক।”
স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হবে— এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলেও জানান সিইসি। তিনি বলেন, যেহেতু নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হবে না, তাই কিছু বিধিবিধান সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে। সংস্কার কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের সরকারদলীয় হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, এনসিপির নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের চেয়ারম্যান ফাহিম আহমেদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব বক্তব্য দেন।
এ সময় আরএফইডির সভাপতি কাজী এমাদ উদ্দীন জেবেল ও সাধারণ সম্পাদক ইকরাম-উদ দৌলার নেতৃত্বাধীন নবনির্বাচিত কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করে।