প্রকাশিত: ১৮ মে ২০২৬, ০৫:৩৩ পিএম
1696
২৫ মে ২০২৬, ০২:৩৪ পিএম
নাসিরউদ্দীন পাটোয়ারী
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরউদ্দীন পাটোয়ারী বলেছেন, দেশে আরেকটি গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হলে প্রথমেই নির্বাচন কমিশনকে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। তার দাবি, বিগত জাতীয় নির্বাচনে ব্যাপক “ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং” বা নির্বাচনী কারচুপি হয়েছে এবং এর সঙ্গে জড়িতদের ভবিষ্যতে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।
সোমবার (১৮ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের সম্মেলন কক্ষে রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসির (আরএফইডি) নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক ও বিদায়ী কমিটির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
নাসিরউদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, অতীতের নির্বাচনে বিভিন্ন প্রার্থীর বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে কারচুপির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে কিছু নির্দিষ্ট প্রার্থীকে হারানোর পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ছিল একটি “সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন”।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের মেরুদণ্ড শক্ত ও নিরপেক্ষ থাকলে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হতে পারত। কিন্তু বাস্তবে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে জনগণের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এ কারণে ভবিষ্যতে কোনো গণ-আন্দোলন হলে নির্বাচন কমিশনকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
নির্বাচনে দ্বিমুখী আচরণের অভিযোগ তুলে এনসিপির এই নেতা বলেন, বিভিন্ন আসনে ভিন্ন ভিন্ন নিয়ম প্রয়োগ করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, তার নিজের নির্বাচনী এলাকায় যেসব বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল, অন্য কিছু আসনে সেগুলো অনুসরণ করা হয়নি।
নাসিরউদ্দীন পাটোয়ারী আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনের দিন বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছেন। তিনি বলেন, এসব বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছেও তথ্য ও প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়েছে।
ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমোদন দেওয়ার বিষয়েও কঠোর সমালোচনা করেন তিনি। তার দাবি, সংবিধানের চেতনার পরিপন্থী হয়েও কিছু প্রার্থীকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য ক্ষতিকর।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি নির্বাচন কমিশনকে সতর্ক করে বলেন, আসন্ন নির্বাচনে যদি আবারও অনিয়ম, পক্ষপাত বা কারচুপির অভিযোগ ওঠে, তাহলে রাজপথের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। তিনি রাজনৈতিকভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানালেও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধের ইঙ্গিত দেন।
বক্তব্যে অতীতের রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনেক সময় সহিংসতায় রূপ নিতে পারত; তবে দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে তা এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট অনিয়মের জন্য দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা হবে।
সাংবাদিকদের উদ্দেশেও বক্তব্য দেন নাসিরউদ্দীন পাটোয়ারী। তিনি বলেন, গণমাধ্যমকর্মীরা দেশের বাস্তব পরিস্থিতি সবচেয়ে কাছ থেকে দেখেন এবং তাদের দায়িত্ব সত্য তুলে ধরা। কোনো চাপ বা বাধা থাকলে আন্তর্জাতিক সাংবাদিক সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখারও আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, গণমাধ্যমের বস্তুনিষ্ঠ ভূমিকা ও জনগণের সচেতনতার মাধ্যমে একদিন বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন আরও গ্রহণযোগ্য ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।