সোমবার ২৫, মে ২০২৬

২৫ মে ২০২৬, ০১:৪৭ পিএম

রামিসা হত্যা মামলা: আদালতে স্বপ্না আক্তার

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৪ মে ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম

1697

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে ৭ বছরের শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের মামলায় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। আজ রোববার (২৪ মে) সকাল ১১টার দিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আনা হয় এবং বর্তমানে তাকে আদালতের গারদখানায় রাখা হয়েছে। একই দিনে দুপুরের মধ্যেই মামলার প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকেও কড়া পাহারায় আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে। পুলিশের তদন্তকারী দল আজ রোববারের মধ্যেই এই চাঞ্চল্যকর মামলার চূড়ান্ত চার্জশিট (অভিযোগপত্র) আদালতে দাখিল করার সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বলে সংশ্লিষ্ট আদালত সূত্র নিশ্চিত করেছে।

মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ফরেনসিক রিপোর্ট ও ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলে ঘটনার সময় শিশুটির ওপর চরম পাশবিক সহিংসতা ও ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে। অপরাধীর অপরাধের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নিশ্চিত করতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ইতোমধ্যে ডিএনএ রিপোর্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করেছে, যা অভিযোগপত্রে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আদালতে অকাট্য ও গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে। এর আগে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও নির্মমভাবে হত্যার কথা নিজের মুখে স্বীকার করেন। জবানবন্দি রেকর্ড করার পর বিজ্ঞ আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং মামলার আলামত গোপন ও অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগে একই দিনে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও কারাগারে পাঠানো হয়।

তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, নিহত শিশু রামিসা আক্তার রাজধানীর একটি স্থানীয় স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। ঘটনার দিন সকালে সে বাসা থেকে বের হওয়ার পর হুট করেই নিখোঁজ হয়। দীর্ঘক্ষণ তার সন্ধান না পেয়ে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে স্বজনরা ওই ভবনেরই অন্য একটি ফ্ল্যাটে অভিযুক্ত সোহেল রানার ঘরে গিয়ে খাটের নিচে রামিসার রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। এই লোমহর্ষক ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত সোহেল রানা ঢাকা থেকে পালিয়ে আত্মগোপন করেন। পরবর্তীতে প্রযুক্তির সহায়তায় ও পুলিশের বিশেষ অভিযানে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। শিশু অধিকার সংগঠনগুলোর আন্দোলনের মুখে পুলিশ এই মামলার দ্রুততম সময়ে চার্জশিট প্রস্তুত করল।

Link copied!