প্রকাশিত: ২৪ মে ২০২৬, ০৪:১৯ পিএম
1696
২৬ মে ২০২৬, ০৭:৩২ পিএম
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে নৌপথে ঘরমুখী যাত্রী ও পশুবাহী যানবাহনের চাপ ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সব লঞ্চ, খেয়া ও ফেরিঘাটে বিশেষ ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। নদীপথে সাধারণ যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে নিয়মিত টহল জোরদার, স্পর্শকাতর পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা মোকাবিলায় জরুরি উদ্ধার প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। আজ রোববার (২৪ মে) সকালে ভোলার ইলিশা ফেরিঘাটে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সংবাদিকদের এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন আরিফ হোসেন। তিনি বলেন, ঈদকে সামনে রেখে দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা একধাপ বাড়ানো হয়েছে। কোস্ট গার্ডের আওতাধীন ভোলার ইলিশা, খেয়াঘাট, ভেদুরিয়া, নাজিরপুর ও চৌমুহনী; লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরীর হাট ও আলেকজান্ডার; বরিশালের ডিসি ঘাট, উলানিয়া ও পুরাতন হিজলা; পটুয়াখালীর আলীপুর, কলাপাড়া ও বাউশিয়া; নোয়াখালীর তমরুদ্দি ও রামনেওয়াজ; এবং বরগুনার কাকচিড়া ও পাথরঘাটাসহ বিভিন্ন নৌ-রুটের গুরুত্বপূর্ণ ঘাটে ২৪ ঘণ্টা টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
ক্যাপ্টেন আরিফ হোসেন নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিশদ বিবরণ দিয়ে জানান, নৌপথে যেকোনো ধরনের লঞ্চ বা ট্রলার দুর্ঘটনা মোকাবিলায় কোস্ট গার্ডের দক্ষ ডুবুরি দলকে সব ধরনের আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জামসহ সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর পাশাপাশি বিআইডব্লিউটিএর প্রধান কন্ট্রোল রুমে কোস্ট গার্ডের বিশেষ প্রতিনিধি দল মোতায়েন করা হয়েছে, যারা সার্বক্ষণিক সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করবেন। ঘাটগুলোর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত কোস্ট গার্ড সদস্য মোতায়েন, সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও নৌযানে তল্লাশি এবং যাত্রীদের ব্যাগ মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে স্ক্যানিংয়ের মতো কড়া নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। নৌপথে চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও নাশকতা প্রতিরোধের পাশাপাশি কোরবানি উপলক্ষে ভারত বা অন্য কোনো উৎস থেকে অবৈধ উপায়ে নদীপথে কোরবানির পশু—বিশেষ করে গরু ও মহিষ—চোরাচালান ঠেকাতে উচ্চগতির স্পিডবোটসহ একাধিক বিশেষ টহল টিম গভীর নদী ও মোহনাগুলোতে সার্বক্ষণিক মোতায়েন করা হয়েছে।
লঞ্চ বা ট্রলারে অতিরিক্ত যাত্রী বহনের কারণে প্রতি বছর যে বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটে, তা এড়াতে এবার বিশেষ সচেতনতামূলক টহল, মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। লঞ্চগুলোর নির্ধারিত ধারণক্ষমতার বেশি যাত্রী পরিবহন ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে অতিরিক্ত যাত্রী তোলা বন্ধে ঘাটগুলোতে কঠোর আইনি নজরদারি চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে যেকোনো আপদকালীন পরিস্থিতিতে যাত্রীদের লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার নিশ্চিত করতেও কাজ করছে কোস্ট গার্ডের সদস্যরা। জোনাল কমান্ডার আরও বলেন, নির্ধারিত অনুমোদিত ঘাট ছাড়া মাঝনদীতে বা ছোট দুর্গম বোট বা ট্রলারে অবৈধভাবে যাত্রী ওঠানামা বন্ধে বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে। নৌপথে যেকোনো ধরণের জরুরি প্রয়োজনে বা বিপদে তাৎক্ষণিক সহায়তা পেতে দেশের সব নাগরিক ও যাত্রীদের কোস্ট গার্ডের নিজস্ব জরুরি সেবা নম্বর ‘১৬১১১’-এ যোগাযোগ করার জন্য বিশেষভাবে আহ্বান জানান তিনি। কোস্ট গার্ড সদর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, ঈদযাত্রা শুরুর আগে থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ নিরাপত্তা ও উদ্ধার কার্যক্রম ঈদ শেষে ঘরমুখী যাত্রীদের নিরাপদে কর্মস্থলে ফেরা পর্যন্ত বা আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত নদীপথে অব্যাহত থাকবে।