প্রকাশিত: ২৪ মে ২০২৬, ০৫:১০ পিএম
1697
২৬ মে ২০২৬, ০২:২২ পিএম
ববি হাজ্জাজ
জাতীয় স্কুল ফিডিং বা মিড-ডে মিল কার্যক্রমে কোমলমতি শিশুদের পুষ্টিকর খাদ্যের মান ও নিয়মিত সরবরাহের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের গাফিলতি, দুর্নীতি বা অনিয়ম কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘দেশের ভবিষ্যৎ নাগরিকদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রশ্নে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ শূন্য সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স) নীতি বজায় রাখবে এবং এতে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’ আজ রোববার (২৪ মে) বিকেলে রাজধানীর প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (পিটিআই) স্কুল ফিডিং কর্মসূচির সরবরাহকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং মাঠপর্যায়ের দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে আয়োজিত এক জরুরি ও বিশেষ নির্দেশনামূলক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, "এটিকে কেউ কোনো সাধারণ বা গতানুগতিক সভা মনে করবেন না। এটি আমাদের শিশুদের পুষ্টি, স্বাস্থ্য ও মেধা বিকাশের সাথে জড়িত অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ একটি জাতীয় কর্মসূচি। সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হোন কিংবা সরবরাহকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠান—সবাইকে দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা ও সততার সাথে এই পবিত্র কাজ সম্পন্ন করতে হবে।" তিনি আরও তথ্য দিয়ে জানান, বর্তমানে দেশের ১৫১টি উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এই বিশাল স্কুল ফিডিং কর্মসূচি মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এত বড় একটি মেগা ও জনকল্যাণমুখী প্রকল্পে জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ না হলে বা খাদ্যের মানে গড়মিল হলে তা সরকার ও সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য চরম বিব্রতকর হবে।
সরবরাহকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার ব্যবসা ও বেসরকারি বিনিয়োগবান্ধব, এটি সত্য। তবে ব্যবসার নামে মুনাফা লোটার উদ্দেশ্যে শিশুদের খাদ্যের গুণগত মানের সঙ্গে আপস করার বা নিম্নমানের খাবার দেওয়ার কোনো সুযোগ এখানে নেই। যারা চুক্তি অনুযায়ী সঠিকভাবে কঠোর শর্ত মেনে নিখুঁতভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না, ভবিষ্যতে তারা কালো তালিকাভুক্ত হবেন এবং এই জাতীয় কার্যক্রমে আর কখনোই যুক্ত থাকতে পারবেন না। কর্মসূচিকে আরও স্বচ্ছ, দুর্নীতিমুক্ত ও গতিশীল করতে সভায় বেশ কিছু নতুন ও কঠোর নির্দেশনা দেন প্রতিমন্ত্রী। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—খাদ্যসামগ্রী কোথা থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে, কীভাবে তা প্রক্রিয়াজাত হচ্ছে এবং কার মাধ্যমে সুনির্দিষ্টভাবে বিদ্যালয়ে পৌঁছাচ্ছে; তার সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও লাইভ ট্র্যাকিং তথ্য (অ্যাপসের মাধ্যমে) সরকারের কাছে থাকতে হবে। এ ছাড়া খাদ্যের পুষ্টিগুণ ও গুণগত মান ল্যাবরেটরিতে নিয়মিত পরীক্ষা করতে বিশেষায়িত টেকনিশিয়ান নিয়োগ করতে হবে; স্থানীয় অর্থনীতি ও উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে সরাসরি স্থানীয় কৃষকদের মাঠপর্যায় থেকে খাদ্য সংগ্রহ ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রতিদিন নির্ধারিত ক্লাসের সময়ে বিদ্যালয়ে নিখুঁতভাবে খাদ্য পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, "আমাদের মূল ও একমাত্র লক্ষ্য একটাই—স্কুলের শিশুরা যেন প্রতিদিন সঠিকভাবে মানসম্মত পুষ্টিকর খাবার পায়। এজন্য বাস্তবসম্মত সব ধরনের আর্থিক ও প্রশাসনিক সহযোগিতা সরকার দেবে। তবে দায়িত্বপ্রাপ্তদেরও নিজেদের কাজের শতভাগ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।" এটিকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পাইলট বা পরীক্ষামূলক কর্মসূচি হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, বর্তমানে মাঠপর্যায়ে যে সমস্যা ও চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত হচ্ছে, সেগুলো দ্রুত সমাধান করেই আগামীতে সারা দেশের প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আরও বড় পরিসরে এই কর্মসূচি ছড়িয়ে দেওয়া হবে। সভায় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা যাতায়াত ও স্থানীয় নানা বাস্তব চ্যালেঞ্জ তুলে ধরলে প্রতিমন্ত্রী শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক ও স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা আরও জোরদার করার ব্যাপারে আশ্বস্ত করেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেনের সভাপতিত্বে উক্ত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী, কেন্দ্রীয় প্রকল্প পরিচালক, উপপরিচালক, জেলা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এবং সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারী ঠিকাদাররা।