শনিবার ২৮, মার্চ ২০২৬

শনিবার ২৮, মার্চ ২০২৬ -- : -- --

বিদ্যালয়ে শিখন ঘাটতি পূরণে নেওয়া হবে বাড়তি ক্লাস

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৫ মার্চ ২০২৬, ১১:৪১ এএম

16

পবিত্র ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটি শেষে সরকারি-বেসরকারি অফিসে কর্মচাঞ্চল্য ফিরলেও দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এখনও ছুটির আবহে রয়েছে। প্রায় ৪০ দিনের বিরতি কাটিয়ে আগামী ২৯ মার্চ থেকে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পুনরায় শ্রেণিকক্ষে ফিরবে শিক্ষার্থীরা। তবে রোজা ও ঈদের ছুটির কারণে পড়াশোনায় বড় ধরনের ‘শিখন ঘাটতি’ তৈরি হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পাঠ্যসূচি নির্ধারিত সময়ে শেষ করা এবং শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

সূত্র জানায়, শুরুতে শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী ১৫ রমজান পর্যন্ত ক্লাস চালুর সিদ্ধান্ত থাকলেও, শিক্ষকদের আপত্তির মুখে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন পুরো রমজান মাস ছুটি ঘোষণা করেন। এতে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ বিরতি পেলেও সিলেবাস শেষ করা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শিখন ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে বিকল্প পদ্ধতি নিয়ে কাজ চলছে। এর মধ্যে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ক্লাস নেওয়া, প্রতিদিন অতিরিক্ত পিরিয়ড যুক্ত করা কিংবা স্বল্প সময়ের মধ্যে সিলেবাস সমন্বয়ের মতো বিভিন্ন প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হতে পারে।

এদিকে, মাদ্রাসায় বরাবরের মতো পুরো রমজান ছুটি থাকলেও স্কুল খোলা রাখার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত ঘিরে শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। পরবর্তী সময় বৈষম্য দূর করতে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সমন্বিত ছুটি ঘোষণা করা হয়। সেই সময়ই শিক্ষামন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ছুটির কারণে সৃষ্ট ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে আগামী সপ্তাহ থেকেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আবার প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে উঠবে এবং অতিরিক্ত একাডেমিক উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি দ্রুত কাটিয়ে তোলা সম্ভব হবে।

১০ শনিবার খোলা থাকবে প্রাথমিক বিদ্যালয়
রমজান ও ঈদের ছুটি শেষে পরপর ১০টি শনিবার দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম চালু রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রাক-প্রাথমিক ও একীভূত শিক্ষা) মো. জয়নাল আবেদীনের সই করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।


আদেশে বলা হয়েছে, রমজান মাসব্যাপী বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিখন ঘাটতি তৈরি হয়েছে। সেই ঘাটতি পূরণ এবং নির্ধারিত পাঠসূচি যথাসময়ে শেষ করতে ধারাবাহিকভাবে ১০টি শনিবার বিদ্যালয় খোলা রেখে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান জানান, নির্ধারিত পাঠপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং শিক্ষার্থীদের শেখার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গত ৮ মার্চ থেকে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ছুটি শুরু হয়।  ২৯ মার্চ থেকে শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা।

Link copied!