প্রকাশিত: ২৮ মার্চ ২০২৬, ০৫:৫৫ পিএম
0
শনিবার ২৮, মার্চ ২০২৬ -- : -- --
স্কালোনি
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ১১৫তম স্থানে থাকা দুর্বল মৌরিতানিয়ার বিপক্ষে ২-১ গোলের ঘাম ঝরানো জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা। তবে এই জয়ে মোটেও স্বস্তিতে নেই বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। দলের পারফরম্যান্স এতটাই বিবর্ণ ছিল যে, ম্যাচ শেষে কোচ লিওনেল স্কালোনি অকপটে স্বীকার করে নিয়েছেন, আর্জেন্টিনা ভালো খেলেনি। অন্যদিকে, গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ তো আত্মসমালোচনা করতে গিয়ে বাতিল হওয়া ফিনালিসিমার প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন!
আসন্ন বিশ্বকাপ সামনে রেখে এই ম্যাচে বেশ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালান কোচ স্কালোনি। অধিনায়ক লিওনেল মেসি ও মিডফিল্ডার রদ্রিগো ডি পলকে তিনি মাঠে নামান বিরতির পর। মেসিকে খেলান অ্যাটাকিং থার্ডের একেবারে সামনে। তবে এসব কৌশলের কারণে দলের খেলায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে মনে করেন কোচ।
ম্যাচ শেষে স্কালোনি বলেন, ‘সব সময়ের মতো এই ম্যাচ থেকেও অনেক কিছু ঠিক করার আছে। তবে ভুলগুলো এখনই হওয়া ভালো। মাঝেমধ্যে আমরা যখন নতুন কিছু করার চেষ্টা করি, তখন দলের পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। দল ভালো খেলেনি। এটা মানতে হবে এবং কিছু বিষয় ঠিক করতে হবে।’
মেসিকে বিরতির পর নামানোর বিষয়ে স্কালোনির ব্যাখ্যা ছিল, ‘মেসির খেলার সময় নিয়ে তার সঙ্গে আগেই কথা হয়েছিল, সেই পরিকল্পনা অনুযায়ীই তাকে খেলানো হয়েছে।’
যোগ করা সময়ের ৯৪ মিনিটে গোল হজম করা গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ দলের পারফরম্যান্স নিয়ে ছিলেন আরও বেশি সমালোচনামুখর। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে উয়েফা স্পেনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ফিনালিসিমা ম্যাচটি বাতিল করায় যেন হাঁপ ছেড়ে বেঁচেছেন তিনি!
দলের পারফরম্যান্স নিয়ে মার্টিনেজ বলেন, ‘সত্যি বলতে, পারফরম্যান্স খুবই দুর্বল ছিল। আমাদের খেলা প্রীতি ম্যাচগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম বাজে ম্যাচ। আমাদের খেলায় তীব্রতা ছিল না, কোনো ছন্দ ছিল না, এমনকি গতিরও অভাব ছিল।’ এরপর বাতিল হওয়া ফিনালিসিমা নিয়ে কৌতুক করে তিনি বলেন, ‘ভাগ্যিস, বেঁচে গিয়েছি (ম্যাচটি বাতিল হওয়ায়)। যেভাবে খেলেছি আজ, তাতে ওই ম্যাচে নির্ঘাত হারতাম।’
পুরো ম্যাচে ৬৪ শতাংশ বল দখলে রাখলেও আক্রমণে ধার ছিল না আর্জেন্টিনার। অন্যদিকে, ৩৬ শতাংশ বল দখলে রাখা মৌরিতানিয়া দ্বিতীয়ার্ধে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায়। দ্বিতীয়ার্ধে তাদের বল দখল ছিল ৪২ শতাংশ। পুরো ম্যাচে আর্জেন্টিনার ৭টি শটের বিপরীতে মৌরিতানিয়া শট নিয়েছে ১১টি! এর মধ্যে দ্বিতীয়ার্ধেই আফ্রিকার দলটি ৮টি শট নিয়েছে, যেখানে আর্জেন্টিনা নিতে পেরেছে মাত্র ১টি। দ্বিতীয়ার্ধে মার্টিনেজ একটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ না করলে হয়তো ফলাফল অন্যরকমও হতে পারত।