শুক্রবার ১৫, মে ২০২৬

১৫ মে ২০২৬, ১২:০৭ এএম

বাংলাদেশ ব্যাংকের আধুনিকায়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে যুক্তরাজ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৮ মে ২০২৬, ১১:২১ এএম

1691

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের বৈঠক

বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার মিজ সারাহ কুক ঢাকায় বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বৈঠকে দুই পক্ষের মধ্যে আর্থিক খাতের আধুনিকায়ন, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং ব্যবস্থা এবং পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান, স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি বিষয়ক পরামর্শক ফারহানুল গণি চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ব্রিটিশ হাইকমিশনের পক্ষে এমা উইন্ড ও ইসাম মোসাদ্দেক বৈঠকে অংশ নেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংক ও যুক্তরাজ্য সরকারের চলমান সহযোগিতামূলক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। বিশেষ করে দেশের আর্থিক খাতকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তোলা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক বাংলাদেশ ব্যাংককে একটি আধুনিক, শক্তিশালী ও প্রযুক্তিভিত্তিক কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে গড়ে তুলতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে আর্থিক খাতের সংস্কার কার্যক্রম এবং ব্যাংক রেজুলেশন আইন বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়েও মতবিনিময় হয়।

বৈঠকে অর্থ পাচার প্রতিরোধ এবং বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ পুনরুদ্ধারের বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়। দুই পক্ষই পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধারে দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।

এছাড়া আসন্ন এফএটিএফ মিউচুয়াল ইভ্যালুয়েশনকে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি, অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধ, ভিসা জালিয়াতি রোধ এবং ভিসা আবেদন সংক্রান্ত ব্যাংক হিসাবের তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে যাচাইয়ের বিষয়েও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান দেশের উন্নয়ন ও আর্থিক খাতের আধুনিকায়নে যুক্তরাজ্য সরকারের ধারাবাহিক সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক একটি ক্যাশলেস সমাজ গড়ে তোলা এবং শক্তিশালী ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেম প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। পাশাপাশি আর্থিক খাতে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও আধুনিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

Link copied!