প্রকাশিত: ১০ মে ২০২৬, ০১:১৯ পিএম
1706
৩০ মে ২০২৬, ১১:৪৩ পিএম
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য শুধু রাজনৈতিক গণতন্ত্র যথেষ্ট নয়, অর্থনীতিতেও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। তার মতে, যারা এখনো মূলধারার অর্থনীতির বাইরে রয়েছে, তাদেরকে অন্তর্ভুক্ত করাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
রোববার (১০ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পিকেএসএফ ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ প্রকল্প ‘রেইজ’-এর দ্বিতীয় পর্যায়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, “নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকেরই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের অধিকার রয়েছে। আমরা চাই অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ হোক, যাতে সবাই সমানভাবে সুযোগ পায়।”
তিনি আরও বলেন, যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়। সেই মানদণ্ড পূরণ না করলে কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে না। পিকেএসএফ-এর কার্যক্রমকে তিনি প্রশংসা করেন এবং প্রতিষ্ঠানটির কাজ আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা সরকারের বিবেচনায় রয়েছে বলেও জানান।
দেশের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আমির খসরু বলেন, স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় অনেক দেশের তুলনায় বেশি, যা কাম্য নয়। আগামী বাজেটে এই দুটি খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের রয়েছে বিশাল জনসংখ্যাগত সুবিধা (ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড), যা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও ত্বরান্বিত হবে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের হস্তশিল্প, সংস্কৃতি ও ডিজিটাল পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে যথেষ্ট সম্ভাবনাময় হলেও সঠিক পরিকল্পনার অভাবে বাংলাদেশ সেই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারছে না। বিশেষ করে শীতলপাটির মতো ঐতিহ্যবাহী পণ্যের বৈশ্বিক বাজারে আরও বিস্তারের সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, একটি ভালো ডিজাইনই কোনো পণ্যের মূল্য কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই শুধু উৎপাদন নয়, ডিজাইন ও আন্তর্জাতিক মার্কেটিং কৌশলেও গুরুত্ব দিতে হবে।
খেলাধুলাকে অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি কর্মসংস্থান ও জিডিপি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে, তবে এ খাতে এখনও কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ হয়নি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, নারীদের আর্থিক ক্ষমতায়ন বাড়াতে ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। একইভাবে কৃষক কার্ডও দেশের অর্থনৈতিক প্রবাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।