প্রকাশিত: ৩০ মে ২০২৬, ১০:৪১ এএম
1682
৩০ মে ২০২৬, ০৮:৫৮ পিএম
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান
শনিবার (৩০ মে) শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী। ১৯৮১ সালের এই দিনে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সেনাবাহিনীর একদল বিপথগামী সদস্যের হামলায় তিনি নিহত হন।
দিবসটি উপলক্ষে ২৫ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত আট দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশব্যাপী কালো পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, দোয়া মাহফিল এবং অসচ্ছল মানুষের মাঝে খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
শনিবার ভোর ৬টায় নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের দলীয় কার্যালয়গুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা এবং কালো পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। পরে বেলা ১১টায় শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠের কর্মসূচি রয়েছে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। তার সঙ্গে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারাও অংশ নেবেন।
এছাড়া বিকাল ৩টায় দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী এবং বস্ত্র বিতরণ করবে বিএনপি। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের টি অ্যান্ডটি খেলার মাঠ সংলগ্ন এলাকায় দুস্থদের মধ্যে খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। পরবর্তীতে রাজধানীর আরও ১৬টি স্থানে আয়োজিত অনুরূপ কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে তার।
অন্যদিকে, সকাল সাড়ে ৯টায় জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
এরপর বেলা ১১টায় হাইকোর্ট মাজার সংলগ্ন এলাকায় আইনজীবীদের উদ্যোগে আয়োজিত অসহায় মানুষের মধ্যে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি।
একই সময়ে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এফডিসির সামনে আয়োজিত পৃথক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান।
দিবসটি উপলক্ষে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের প্রতিটি থানা এবং দেশের বিভিন্ন সাংগঠনিক ইউনিটে অসচ্ছল মানুষের মাঝে কাপড়, চাল, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি দেশের সব জেলা, মহানগর ও অন্যান্য ইউনিটে কালো পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল এবং মানবিক সহায়তা কর্মসূচি পালন করা হবে।
এ কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় আগামী ৩১ মে রোববার বেলা ২টায় রাজধানীর রমনায় ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের সময় ১ নম্বর সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার এবং ‘জেড ফোর্স’-এর অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বীরত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত হন।
১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগমারা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন জিয়াউর রহমান। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশের অষ্টম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তন, কৃষি উন্নয়ন, শ্রমশক্তি রপ্তানির প্রসার এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার বিভিন্ন উদ্যোগের জন্য পরিচিত। দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে গঠিত সার্ক প্রতিষ্ঠার ধারণা প্রসারেও তার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য বলে বিবেচিত হয়। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।