সোমবার ২৫, মে ২০২৬

২৫ মে ২০২৬, ০৩:৫৯ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বিজিএমইএ প্রতিনিধিদলের বৈঠক

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১২ মে ২০২৬, ০৯:০৮ এএম

1705

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিজিএমইএ প্রতিনিধিদলের বৈঠক

দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পের বিদ্যমান সংকট, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এবং রপ্তানি আয় বৃদ্ধির কৌশল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির নেতারা।

 

বৈঠকে শিল্পখাতের টেকসই উন্নয়ন, রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়।

সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বিজিএমইএর প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন সংগঠনের সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু। বৈঠকে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও উপদেষ্টারাও উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনায় দেশের তৈরি পোশাক শিল্পকে আরও বহুমুখী ও আধুনিক করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে কৃত্রিম তন্তুভিত্তিক পোশাক উৎপাদন বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চমূল্যের পণ্যের অংশীদারিত্ব বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়। এ খাতে প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন ও নতুন বাজার অনুসন্ধানে শিল্প উদ্যোক্তাদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।

বৈঠকে বলা হয়, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের প্রতিযোগিতার কারণে দেশের অনেক পোশাক কারখানা চাপে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো পুনরায় চালু এবং সংকটে থাকা কারখানাগুলোকে টিকিয়ে রাখতে সরকার বিশেষ সহায়তা কার্যক্রম হাতে নিয়েছে।

বিজিএমইএর পক্ষ থেকে শিল্পখাতকে টেকসই রাখতে একটি বিশেষ তহবিল গঠনের উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হয়। একই সঙ্গে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কারখানাগুলোকে চিহ্নিত করে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানানো হয়, যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অর্থের অপব্যবহার না ঘটে।

সংগঠনের নেতারা আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক কারখানা টিকে থাকার জন্য সংগ্রাম করছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে নীতিগত সহায়তা দেওয়া হলে উৎপাদন অব্যাহত রাখা সহজ হবে এবং বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের কর্মসংস্থান রক্ষা পাবে। শিল্পখাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ব্যাংকিং সুবিধা, রপ্তানি প্রণোদনা এবং অবকাঠামোগত সহায়তা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় বলেন, সরকার বন্ধ কারখানা পুনরায় চালু করা এবং সংকটে থাকা সচল কারখানাগুলোকে সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়ে সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। শিল্প মালিকদের বাস্তব সমস্যাগুলো বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা প্রদানের আশ্বাসও দেওয়া হয়।

বৈঠকে সরকার ও বিজিএমইএর যারা উপস্থিত ছিলেন তারা হলেন,  গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন, বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী  খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং উপদেষ্টা জনাব মাহদি আমিন। বিজিএমইএ প্রতিনিধিদলে অন্যান্যদের মধ্যে আরও ছিলেন সহ-সভাপতি রেজোয়ান সেলিম, সহ-সভাপতি (অর্থ)  মিজানুর রহমান, সহ-সভাপতি ভিদিয়া অমৃত খান, সহ-সভাপতি শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী এবং সহ-সভাপতি মোহাম্মদ রফিক চৌধুরী।

দেশের অর্থনীতি ও রপ্তানি খাতের উন্নয়নে সরকারের সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনার জন্য সংগঠনের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।

Link copied!