প্রকাশিত: ১৬ মে ২০২৬, ১০:৫৯ এএম
1699
৩১ মে ২০২৬, ০২:১২ এএম
চট্টগ্রামের পটিয়ায় দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নতুন কমিটিতে পদ পাওয়া নেতা-কর্মীদের আনন্দ মিছিলে পদবঞ্চিতদের বাধার ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত চারজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (১৫ মে) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া উপজেলার শান্তিরহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ মে দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের কমিটিতে নতুন করে ৭২ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করে তালিকা প্রকাশ করা হয়। এতে পটিয়া উপজেলা থেকে ১২ জন নেতা-কর্মী বিভিন্ন পদে স্থান পান। তবে অনেক নেতা-কর্মী কমিটিতে স্থান না পাওয়ায় তাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়।
জানা গেছে, কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত অধিকাংশ নেতা দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রবিউল হোসেন রবির অনুসারী হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে পদবঞ্চিত অংশটি যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম নয়নের অনুসারী বলে জানা যায়।
বিকেলে শান্তিরহাট কামাল সেন্টার মার্কেট এলাকায় নতুন কমিটিতে স্থান পাওয়া নেতা-কর্মীরা আনন্দ মিছিলের প্রস্তুতি নেন। এ সময় পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীরা সেখানে উপস্থিত হয়ে মিছিলে বাধা দেন। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশের হস্তক্ষেপে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়।
পরে আনন্দ মিছিল করতে না পেরে নতুন কমিটিতে স্থান পাওয়া নেতা-কর্মীরা শান্তিরহাট মীর সুপার মার্কেট এলাকায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন। সমাবেশ শেষে ফেরার পথে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত চারজন আহত হন।
আহতদের মধ্যে সায়মন, নুরুল ইসলাম ও হাবিবের নাম জানা গেছে। তারা স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব অভিযোগ করেন, সমাবেশ শেষে ফেরার পথে প্রতিপক্ষের হামলায় তাদের কয়েকজন কর্মী আহত হন। তিনি নিজেও আহত হয়ে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানান।
অন্যদিকে দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম নয়ন বলেন, যারা দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয় ছিলেন এবং মামলা-হামলার শিকার হয়েছেন, তারা কমিটিতে মূল্যায়ন না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে মিছিল করতে বাধা দিয়েছেন।
ঘটনার বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রবিউল হোসেন রবির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, ছাত্রদলের দুই পক্ষের উত্তেজনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।