সোমবার ২৫, মে ২০২৬

২৫ মে ২০২৬, ০৮:৫৬ পিএম

আলেমদের ওপর অবিচার সহ্য করা হবে না: ধর্মমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৮ মে ২০২৬, ০২:২৮ এএম

1694

ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভায় বক্তব্য দিচ্ছেন

আলেমদের ওপর অবিচার সহ্য করা হবে নাঃ ধর্মমন্ত্রী


আলেম-ওলামাদের ওপর কোনো ধরনের অবিচার, নির্যাতন কিংবা জুলুম বরদাশত করা হবে না বলে জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)। তিনি বলেন, প্রয়োজনে যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত রয়েছি। তবে দেশের আলেম সমাজের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় কোনো আপস করা হবে না। একই সঙ্গে মাদ্রাসাগুলোর প্রতি যাতে বৈষম্য বা অবহেলা না করা হয় সে বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে নির্দেশনা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

রোববার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া সংরক্ষণে আলেম-ওলামাদের করণীয় বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ধর্মমন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, ইসলাম ও ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব রক্ষায় আলেম সমাজের ভূমিকা অপরিসীম। আল্লাহর রহমতেই মাদ্রাসাগুলো যুগের পর যুগ টিকে আছে এবং ভবিষ্যতেও টিকে থাকবে। তিনি মনে করেন, দেশের আলেম সমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে পারলে সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে আরও বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণ প্রসঙ্গে ধর্মমন্ত্রী বলেন, অতীতে অনেক সময় ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় চামড়া নষ্ট করা হয়েছে কিংবা মাটিতে পুঁতে ফেলার মতো ঘটনাও ঘটেছে। এ ধরনের পরিস্থিতি যাতে আর না ঘটে সেজন্য আলেম-ওলামাসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সরকারও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করবে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, চামড়ার গুণগত মান ঠিক রাখতে সঠিক পদ্ধতিতে চামড়া ছাড়ানো ও সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি চামড়া ব্যবসায় কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বরদাশত করা হবে না বলেও কঠোর হুঁশিয়ারি দেন ধর্মমন্ত্রী।

আলেম সমাজকে দেশের নৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্বের ধারক-বাহক হিসেবে উল্লেখ করে কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন বলেন, দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে আলেম-ওলামাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধসহ বিভিন্ন জাতীয় আন্দোলনে কওমি আলেমদের অবদানের কথা স্মরণ করে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের আর্থিক নিরাপত্তা নিয়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্তমানে সরকার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য সম্মানী ভাতা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে দেশের সব মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এই সুবিধার আওতায় আনা হবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আঃ ছালাম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ধর্মসচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ। এছাড়া ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, মাদ্রাসার শিক্ষক, মুহতামিম, খতিব, ইমাম ও আলেম-ওলামারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

সভায় বক্তারা কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে কার্যকর বাজার ব্যবস্থাপনা ও সরকারি নজরদারি জোরদারের দাবি জানান। তারা বলেন, সঠিক সংরক্ষণ ও স্বচ্ছ বাজার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশের চামড়া শিল্পকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।

Link copied!