প্রকাশিত: ১৯ মে ২০২৬, ১১:০০ এএম
1702
৩০ মে ২০২৬, ১০:৫৩ পিএম
জামায়াতের সঙ্গে জোটে গিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের রাজনৈতিক অবস্থান ও পূর্বঘোষিত নীতিগত অবস্থান থেকে সরে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপি নেতা রাশেদ খান।
মঙ্গলবার (১৯ মে ২০২৬) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রাশেদ খান দাবি করেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে এনসিপির নেতারা প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, তারা এমন কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট করবে না, যাদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা যুদ্ধ ও ১৯৭১ সালের ইতিহাস নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। তিনি বলেন, এনসিপির শীর্ষ নেতারাই অতীতে জামায়াতকে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় মানচিত্রের জন্য হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সেই দলটির সঙ্গেই রাজনৈতিক সমঝোতা বা জোটে যাওয়া এনসিপির আগের অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
রাশেদ খান আরও বলেন, এনসিপি শুধু রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি থেকে সরে যায়নি, বরং রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত নেতাকর্মীদের সঙ্গেও প্রতারণা করেছে। তিনি দাবি করেন, বিএনপির যুগপৎ আন্দোলন থেকে বেরিয়ে আসার সময় এনসিপির পক্ষ থেকে জামায়াতের সঙ্গে কোনো ধরনের জোটে না যাওয়ার বিষয়টি অন্যতম যুক্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল।
তিনি রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ূমের একটি সাক্ষাৎকারের উদ্ধৃতি উল্লেখ করে বলেন, সেখানে এনসিপির বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থানকে জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান বলেন, তিনি শুরু থেকেই এনসিপির রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে সন্দিহান ছিলেন। তার মতে, দলটি মূলত বিএনপি ও জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক দরকষাকষির লক্ষ্যেই নতুন জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিল।
এ বিষয়ে তিনি গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের সঙ্গেও আলোচনা করেছিলেন বলে জানান।
একই পোস্টে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়েও সমালোচনা করেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাঙ্ক্ষিত সংস্কার বাস্তবায়ন হয়নি এবং এ দায় থেকে এনসিপি নিজেদের মুক্ত রাখতে পারে না।
তিনি আরও দাবি করেন, ভবিষ্যতে এনসিপির নেতৃত্বের সঙ্গে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা দেখা গেলেও সেটি অস্বাভাবিক হবে না।
রাশেদ খান আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলের পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়েও বিচার বিভাগীয় তদন্ত হওয়া উচিত বলে মত প্রকাশ করেন।