সোমবার ১৫, জুন ২০২৬

১৫ জুন ২০২৬, ০৫:৩০ পিএম

জিপিএ-৫’র পেছনে না ছুটে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল হতে বললেন শিক্ষামন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ জুন ২০২৬, ০৪:১১ পিএম

1692

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন

সরকার দেশের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এনে এমন একটি আনন্দময় ও আধুনিক পদ্ধতি গড়ে তুলতে চায় যেখানে শিক্ষার্থীরা শুধু জিপিএ-৫, এ প্লাস কিংবা গোল্ডেন এ প্লাসের মতো নম্বরভিত্তিক সনদের পেছনে অন্ধের মতো না ছুটে প্রকৃত মেধাবী, সৃজনশীল ও আন্তর্জাতিক মানের উদ্ভাবনী মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে। আজ সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে অবস্থিত সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজ খেলার মাঠে জাতীয় ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা ২০২৬’-এর বর্ণাঢ্য উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এসব কথা বলেন।

শিক্ষার্থীদের ওপর থেকে পড়াশোনার মানসিক চাপ কমিয়ে আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টির তাগিদ দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “আমরা কোনোভাবেই চাই না আমাদের আগামী দিনের ভবিষ্যৎ ও কোমলমতি শিশুরা শুধু জিপিএ-৫, এ প্লাস, গোল্ডেন প্লাসের মতো ‘সোনার হরিণের’ পেছনে দিন-রাত ছুটে বেড়াক। আমরা চাই তারা প্রকৃত অর্থেই মেধাবী ছাত্র হোক, তারা ক্রিয়েটিভ ও সৃজনশীল হোক। নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যার বেড়াজাল ভেঙে খেলতে খেলতে হাসিখুশিতে বাস্তবমুখী শিক্ষা অর্জন করবে, সেটাই আমাদের সরকারের মূল লক্ষ্য।”

শ্রেণীকক্ষে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও শিক্ষকদের শতভাগ ডিজিটালকরণের বিষয়ে মন্ত্রী এক যুগান্তকারী ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, “আমরা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে আনন্দময় শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশজুড়ে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের পরিধি বাড়াচ্ছি এবং প্রতিটি বিদ্যালয়ের জন্য ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ (One Teacher, One Tab) ব্যবস্থার প্রবর্তন করছি। ইনশাআল্লাহ, দেশের আগামী জাতীয় বাজেটে আপনারা এর প্রতিফলন ও সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ দেখতে পাবেন।”

এই প্রকল্পের কার্যকারিতা ব্যাখ্যা করে শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, “এই ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ প্রযুক্তির মাধ্যমে একজন শিক্ষক ক্লাসরুমে প্রবেশ করেই জানতে পারবেন তাঁর ক্লাসে কতজন ছাত্রছাত্রী উপস্থিত রয়েছে, তাদের দৈনিক অ্যাটেনডেন্স (হাজিরা) ডিজিটাল পদ্ধতিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সার্ভারে যুক্ত হবে। শুধু তাই নয়, ওই ট্যাবের বিশেষ ডাটাবেজের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শারীরিক অবস্থা, মানসিক অবস্থা ও তাদের পারিবারিক অবস্থা পর্যন্ত শিক্ষকরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। এই আধুনিক ট্যাবলেট থেকে শিক্ষকরা সরাসরি মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও আনন্দদায়ক উপায়ে পাঠদান করতে পারবেন।”

নতুন শিক্ষাক্রমের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, “শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য আমরা আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে ক্লাস ফোর (চতুর্থ শ্রেণী) থেকেই স্পোর্টস (খেলাধুলা), কালচার (সংস্কৃতি) এবং ডিবেট (বিতর্ক) বাধ্যতামূলকভাবে কারিকুলামে ইনক্লুড (যুক্ত) করছি। আর ক্লাস সিক্স (ষষ্ঠ শ্রেণী) থেকে বিতর্ক প্রতিযোগিতার পাশাপাশি ‘মানবসম্পদ উন্নয়ন’-এর আধুনিক বৈশ্বিক ধারণাটি আমরা পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করব।”

কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ওপর সর্বোচ্চ জোর দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “প্রাথমিক স্তর শেষ করার পর সেকেন্ডারি (মাধ্যমিক) এবং টারশিয়ারি (উচ্চশিক্ষা) এডুকেশনেও আমরা সাধারণ শিক্ষার চেয়ে কারিগরি ও আইটি শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। কারণ, বাংলাদেশ বর্তমানে অবাধ মানবসম্পদের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং এই তরুণ সমাজকে একটি অত্যন্ত কর্মক্ষম ও দক্ষ আন্তর্জাতিক জাতি হিসেবে পরিণত করার জন্য আমরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছি।”

তিনি বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “আমরা চাই তীব্র প্রতিযোগিতার এই বিশ্বায়নের যুগে বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে টিকে থাকুক। অনেকে মনে করেন বিশ্বে বাংলাদেশ হচ্ছে সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ একটি রাষ্ট্র (Highly Densely Populated Country)। কিন্তু আমাদের সরকার বিশ্বাস করে বিপুল জনসংখ্যা একটি দূরদর্শী জাতির জন্য কখনো অভিশাপ বা বোঝা হতে পারে না। সঠিক ও বাস্তবমুখী কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে এই বিপুল জনসংখ্যাকে অত্যন্ত দক্ষ ও বৈশ্বিক ‘মানবসম্পদে’ রূপান্তরিত করাই আমাদের একমাত্র অঙ্গীকার।”

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত খুদে ক্রীড়াবিদ ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Link copied!