প্রকাশিত: ২২ মার্চ ২০২৬, ০৭:৩৫ পিএম
2032
রবিবার ১৯, এপ্রিল ২০২৬ -- : -- --
বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে ছড়ানো অপতথ্য নিয়ে বিশ্লেষণ প্রতিবেদন
গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে দুই শতাধিক আসনে জয় লাভের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করে বিএনপি।
দায়িত্ব গ্রহণের এক মাস পূর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপটে সরকারের কার্যক্রম যেমন আলোচনায় এসেছে, তেমনি এই সময়জুড়ে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখিও হতে হয়েছে তাদের। এর মধ্যে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ ছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য।
শনিবার (২২ মার্চ) প্রকাশিত এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ‘রিউমর স্ক্যানার’ জানিয়েছে, বিএনপি সরকারকে ঘিরে গত এক মাসে শতাধিক অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে। এসব তথ্যের অধিকাংশই নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলেছে বারবার।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৮ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত ৩০ দিনের মধ্যে ছড়ানো অপতথ্যের ৭৬ শতাংশই নেতিবাচক ধাঁচের। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও বিরোধী বলয়ের কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী এসব অপতথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অপতথ্যের সবচেয়ে বেশি লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার বিরুদ্ধে মোট ৪৫টি অপতথ্য শনাক্ত করা হয়েছে, যার ৫৮ শতাংশই নেতিবাচকভাবে উপস্থাপিত।
এছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের বিরুদ্ধেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে। মোট ৩৩টি অপতথ্যের মধ্যে ৯৮ শতাংশই নেতিবাচকভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে পৃথকভাবে একাধিক অপতথ্য ছড়ানোর তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এসব অপতথ্যের ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়—ভুয়া বক্তব্য ছিল ৪৬টি, ভুয়া ফটোকার্ড ১৮টি, ব্যঙ্গাত্মক বা সার্কাজম পেজ থেকে ২৭টি পোস্ট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি ১১টি কনটেন্ট, পুরোনো ছবি বা ভিডিও ৫টি এবং সম্পাদিত ছবি ২টি।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সহজলভ্যতা ও দ্রুত বিস্তারের কারণে অপতথ্য ছড়ানো এখন আরও সহজ হয়ে উঠেছে। ফলে তথ্য যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য গ্রহণ না করার বিষয়ে সাধারণ জনগণকে আরও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।