প্রকাশিত: ১৩ জুন ২০২৬, ০৬:১২ পিএম
1695
১৩ জুন ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম
শিশু অরিন
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর পৌর শহর থেকে গ্রামীণ জনপদে দাদা বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে পুকুরের পানিতে ডুবে মো. হুসাইন অরিন নামের আট বছর বয়সী এক মাদরাসা শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক ও আকস্মিক মৃত্যু হয়েছে। সে স্থানীয় ‘আল কুরআন মাদরাসা’র তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র ছিল।
আজ শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে কোটচাঁদপুর উপজেলার দোড়া ইউনিয়নের সুয়াদি গ্রামে এই হৃদয়বিদারক ও অবর্ণনীয় ঘটনাটি ঘটে।
নিহত শিশু অরিন কোটচাঁদপুর পৌর শহরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল খালেক মিয়ার নাতি এবং স্থানীয় স্যানিটারি ব্যবসায়ী মো. আমজাদ হোসেন রনির একমাত্র পুত্র সন্তান।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর শহরের বাসা থেকে আজ শনিবার সকালে ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন রনি তাঁর একমাত্র ছেলে অরিনকে সাথে নিয়ে গ্রামের বাড়ি দোড়া ইউনিয়নের সুয়াদি গ্রামে যান। বিকেলে গ্রামের বাড়ির উঠানে সমবয়সী অন্য শিশুদের সাথে মনের আনন্দে খেলাধুলা করছিল অরিন। খেলার একপর্যায়ে সবার অজান্তে ও অসাবধানতাবশত সে বাড়ির ঠিক পাশের একটি গভীর পুকুরের পানিতে পড়ে তলিয়ে যায়।
কিছুক্ষণ পর খেলার সাথিরা অরিনকে দেখতে না পেয়ে চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করে এবং বিষয়টি পরিবারের বড়দের জানায়। স্বজনরা পুকুর পাড়ে গিয়ে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে পানির ওপরে শিশু অরিনের নিথর দেহ ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান। দ্রুত তাকে পানি থেকে উদ্ধার করে কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক অরিনকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে আনুষ্ঠানিকভাবেই মৃত ঘোষণা করেন।
নয়নমণি ও একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বাবা আমজাদ হোসেন রনিসহ পুরো পরিবারের সদস্যরা এখন সম্পূর্ণ বাকরুদ্ধ ও স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন। বুকফাটা আর্তনাদ আর কান্নায় সুয়াদি গ্রাম ও কোটচাঁদপুর শহরের সাহেবপাড়া এলাকার বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত অকাল মৃত্যুতে গোটা কোটচাঁদপুর এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।