শনিবার ১৩, জুন ২০২৬

১৩ জুন ২০২৬, ০৭:৪২ পিএম

নোয়াখালীতে প্রকাশ্যে নারীকে পেটালেন যুবদল নেতা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ জুন ২০২৬, ০৫:৫২ পিএম

1695

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় পাওনা বেতন ও মাছ ধরার জাল নিয়ে বিরোধের জেরে এক গৃহবধূ ও তাঁর স্বামীকে প্রকাশ্যে বেধড়ক পিটিয়েছেন মো. সফিক (৩৮) নামের এক স্থানীয় যুবদল নেতা। আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নে এই বর্বর ঘটনা ঘটে। এদিকে, মারধরের একটি নির্মম ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর জেলাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।

অভিযুক্ত মো. সফিক মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় একটি মাছের খামারের (প্রজেক্ট) মালিক। মারধরের শিকার ওই নারীর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে ওই যুবদল নেতার মাছের খামারে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।

আক্রান্ত ওই নারী অভিযোগ করে বলেন, বিগত দুই মাস ধরে তাঁর স্বামীর হাড়ভাঙা খাটুনির বেতন সম্পূর্ণ বকেয়া রেখেছেন যুবদল নেতা সফিক। পবিত্র ঈদুল আজহার মতো বড় উৎসবেও কোনো বেতন-ভাতা না পাওয়ায় তাঁদের পুরো পরিবার চরম অনাহারে ও কষ্টে দিন কাটিয়েছে। ঈদের পর পাওনা টাকা না পেয়ে তাঁর স্বামী বাধ্য হয়ে ওই যুবদল নেতার খামারের কাজ বন্ধ করে দেন। এতে খামারে শ্রমিক সংকট তৈরি হওয়ায় ওই যুবদল নেতা তাঁদের ওপর চরম ক্ষুব্ধ ছিলেন এবং নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছিলেন।

ওই নারী আরও বলেন, “আজ শনিবার সকালে বাড়ির পাশে স্থানীয় নদীতে আমার স্বামী মাছ ধরার জন্য একটি জাল বসান। অভিযুক্ত যুবদল নেতা সফিক নদী থেকে জোরপূর্বক আমাদের সেই জালটি তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে আমরা বাধা দিই। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সফিক সঙ্গে থাকা একটি প্লাস্টিকের পাইপের ভেতরে লোহার রড ঢুকিয়ে আমার স্বামীকে বেধড়ক মারধর শুরু করেন। পরে বেলা ১১টার দিকে সফিক তাঁর ভগ্নিপতি নূরে মাওলাকে সঙ্গে নিয়ে লাঠিসোঁটাসহ আমাদের বাড়িতে চড়াও হন এবং আবারও আমার স্বামীকে মারেন। এ সময় স্বামীকে বাঁচাতে ও রক্ষা করতে গেলে সফিক আমাকেও টেনেহিঁচড়ে প্রকাশ্যে নৃশংসভাবে পেটান।” এছাড়া যুবদল নেতা সফিক তাঁর খামারের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে নিষিদ্ধ ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলেও ভুক্তভোগী নারী গুরুতর অভিযোগ তোলেন।

অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য অভিযুক্ত যুবদল নেতা মো. সফিকের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে যাওয়ার আগে স্থানীয় এক গণমাধ্যমকর্মীর কাছে মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেন সফিক। তিনি দাবি করেন, “ওই পরিবারের সঙ্গে আমার পারিবারিক সম্পর্ক ছিল। কয়েক দিন আগে ওই নারীর স্বামী আমার খামার থেকে বিপুল পরিমাণ মাছ চুরি করেন। আজ সকালে আমি নদী থেকে জাল নিয়ে আসার পথে ওই নারী ও তাঁর স্বামী উল্টো আমার ওপর পরিকল্পিতভাবে আক্রমণ করেন এবং লাঠি দিয়ে আঘাত করে আমার নাক ফাটিয়ে দিয়েছেন।”

জানতে চাইলে সুবর্ণচরের চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ লুৎফর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “এই মারধরের ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়নি। তবে আমরা ফেসবুক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে নারীকে পেটানোর ভিডিওটি দেখেছি। ভিডিওটি দেখার পরপরই স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে অভিযুক্ত যুবদল নেতা সফিক ও তাঁর সহযোগীদের দ্রুত গ্রেফতার করতে এলাকায় পুলিশের একটি বিশেষ দল পাঠিয়েছি।” ওসি আরও জানান, ভুক্তভোগীদের থানায় ডাকা হয়েছে, লিখিত অভিযোগ পেলেই মামলা রজু করে পরবর্তী কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Link copied!