প্রকাশিত: ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১৩ পিএম
2004
শনিবার ১৮, এপ্রিল ২০২৬ -- : -- --
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগে রিয়াদ বিন সেলিম (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি ছবি এবং ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
শনিবার (৪ এপ্রিল) দিবাগত রাতে পটিয়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পাইকপাড়া এলাকায় নিজ বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে একাধিক ভুয়া পরিচয়পত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সিকিউরিটি ফোর্সের নামে তৈরি আইডি কার্ড, হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টর, বাওফেং মডেলের ওয়াকিটকি সেট, সিগন্যাল লাইট, মনিটরিং সংক্রান্ত কার্ড এবং একাধিক মোবাইল ফোন।
পুলিশ জানায়, রিয়াদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তোলা বলে দাবি করা ছবি প্রকাশ করে নিজেকে প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করতেন। প্রাথমিক তদন্তে এসব ছবি এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রটোকল শাখার নামে ভুয়া পরিচয়পত্র তৈরি করে তদবির বাণিজ্য পরিচালনা করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এক ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, কুমিল্লার দেবিদ্বারের এক ব্যক্তি কারাগারে থাকার সময় রিয়াদ তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত জামিনের ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। এ প্রলোভনে তিনি প্রথমে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করেন এবং পরে নগদ আরও টাকা আদায় করেন। এ ঘটনায় পটিয়া থানায় প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গসহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশের তথ্যমতে, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে পূর্বেও নারী নির্যাতন ও মাদক সংশ্লিষ্ট একাধিক মামলা রয়েছে। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে একাধিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও রয়েছে।
চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণে আরও তথ্য পাওয়া গেছে যে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়ার নাম করে তিনি বহু মানুষের কাছ থেকে অর্থ নিয়েছেন। এর মধ্যে সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন পদে নিয়োগের প্রলোভন দেখানোর ঘটনাও রয়েছে। এছাড়া ভুয়া পার্সেল ডেলিভারির তথ্য ব্যবহার করেও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পুলিশ জানায়, প্রতারণাকে পেশা হিসেবে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছিলেন তিনি। এ ঘটনায় তার সহযোগীদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।