প্রকাশিত: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:০১ পিএম
2002
রবিবার ১৯, এপ্রিল ২০২৬ -- : -- --
নতুন প্রস্তাবিত ব্যাংক রেজুলেশন আইন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির মতে, এ আইন দুর্নীতি ও লুটপাটকে নিরুৎসাহিত করার পরিবর্তে বরং চিহ্নিত লুটেরাদের পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি করতে পারে, যা দেশের জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সরকার যে যুক্তিই তুলে ধরুক না কেন, এই আইনের মাধ্যমে ব্যাংক খাতে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে দুর্নীতিবাজদের পরোক্ষভাবে পুরস্কৃত করা হচ্ছে। তার মতে, এটি শুধু হতাশাজনক নয়, বরং দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের ধারাবাহিকতা।
তিনি আরও বলেন, সংকটে থাকা ব্যাংকগুলোর আগের মালিকরা, যারা এই খাতে অনিয়ম ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাদের পুনরায় মালিকানা ফিরে পাওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, তারা নির্ধারিত অর্থের মাত্র সাড়ে সাত শতাংশ জমা দিয়ে বাকি অর্থ দুই বছরের মধ্যে সুদসহ পরিশোধ করতে পারবেন—যা বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
টিআইবির মতে, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রশ্ন উঠছে—কীভাবে এসব ব্যক্তি এত স্বল্প সময়ের মধ্যে মূলধন পুনর্গঠন, আমানতকারীদের দায় পরিশোধ, কর প্রদান এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করবেন। এ বিষয়ে সরকারের কাছে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা থাকা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করা হয়।
সংস্থাটি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছে, এই আইনের ফলে ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও সুশাসনের ঘাটতি দূর হওয়ার বদলে দায়মুক্তি ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি আরও জোরদার হতে পারে। এতে ঋণখেলাপির প্রবণতা বাড়বে এবং এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ জনগণের ওপর পড়বে।
টিআইবি আরও জানায়, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় না এনে যদি নির্বিচারে মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার প্রবণতা চলতে থাকে, তাহলে ব্যাংকিং খাতে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার সম্ভব হবে না।
সংস্থাটি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, আমানত সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার নামে প্রণীত এই আইনের কার্যকারিতা এবং এর বাস্তব প্রভাব পুনর্বিবেচনা করা জরুরি। পাশাপাশি, এটি সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, সে বিষয়েও পুনরায় ভাবার আহ্বান জানানো হয়েছে।