বুধবার ১৫, এপ্রিল ২০২৬

বুধবার ১৫, এপ্রিল ২০২৬ -- : -- --

বৈশাখের আহ্বানে নতুন বছর: বাঙালির প্রাণে উৎসবের সুর

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১৫ পিএম

4

বাংলা নববর্ষের প্রতীকী ছবি

বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩, প্রথম প্রভাতে প্রকৃতি যেন নতুন করে সেজে উঠেছে। রোদ-ছায়ার খেলায় গ্রাম থেকে নগর , সবখানেই ছড়িয়ে পড়েছে বৈশাখের রুক্ষ তাপদাহ অথচ প্রাণময় ভালোবাসার স্পর্শ। গ্রীষ্মের আগমনী হাওয়ায় কেবল তাপ নয়, রয়েছে নতুনের আহ্বান, পুরোনোকে পিছনে ফেলে  নতুনকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি।

বৈশাখ মানেই বাঙালির জীবনে এক বিশেষ আবেগ। প্রকৃতির এই রূপান্তরের সঙ্গে মিশে আছে সাহিত্য, সংগীত ও ইতিহাসের গভীর বন্ধন। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর অমর রচনায় বৈশাখকে কেবল ঋতু নয়, এক শুদ্ধিকরণের প্রতীক হিসেবে দেখিয়েছেন। তাঁর “এসো হে বৈশাখ” গান আজও নববর্ষের প্রাণস্পন্দন হয়ে বাঙালির হৃদয়ে ধ্বনিত হয়।

অন্যদিকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বৈশাখকে দেখেছেন বিদ্রোহ ও নতুন শক্তির প্রতীক হিসেবে। তাঁর কাব্যভাষায় ঝড়-বৃষ্টির সঙ্গে মিশে আছে জাগরণের আহ্বান, যা আজও নববর্ষের চেতনায় অনুপ্রেরণা জোগায়।

বাংলা নববর্ষের ইতিহাসও সমৃদ্ধ ও তাৎপর্যপূর্ণ। মোগল সম্রাট আকবরের শাসনামলে কৃষি ও রাজস্ব ব্যবস্থাকে সহজ করতে বাংলা সনের প্রচলন শুরু হয়। পরবর্তীতে তা বঙ্গাব্দ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। কৃষিনির্ভর বাংলার জীবনে এই দিনপঞ্জি হয়ে ওঠে সময় গণনার পাশাপাশি উৎসবেরও ভিত্তি। আজকের দিনে নববর্ষ কেবল কৃষিভিত্তিক উৎসব নয়, এটি একটি সর্বজনীন সাংস্কৃতিক মিলনমেলা। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন আয়োজন করছে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান। এর মধ্যে অন্যতম ছায়ানটের রমনা বটমূলে বর্ষবরণ আয়োজন, যা দীর্ঘদিন ধরে বাঙালির নববর্ষ উদযাপনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।

এছাড়া সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম প্রকাশ করেছে বিশেষ সংখ্যা, টেলিভিশন ও রেডিওতে প্রচারিত হচ্ছে বৈশাখী অনুষ্ঠানমালা। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও চলছে ঐতিহ্যবাহী হালখাতার আয়োজন, ক্রেতাদের মিষ্টিমুখ করিয়ে নতুন হিসাবের সূচনা করে।

সময়ের পরিবর্তনে অনেক পুরোনো আচার হারিয়ে গেলেও নববর্ষের মূল সুর আজও অটুট আছে। নতুনকে বরণ, পুরোনোকে বিদায় এবং সামনের দিনের জন্য নতুন স্বপ্ন গড়া। বৈশাখ তাই কেবল ঋতু নয়, এটি বাঙালির জীবনচেতনার এক অনন্ত ভালোবাসার উৎসব।

Link copied!