প্রকাশিত: ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১৮ পিএম
2002
শনিবার ১৮, এপ্রিল ২০২৬ -- : -- --
ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় গভীর রাতে এক আসামির বাড়িতে গিয়ে স্থানীয়দের হাতে আটক হয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই)। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের বলিভদ্রদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পরে খবর পেয়ে সালথা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত অবস্থায় ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দেখা যায়, এএসআই ইমরান পুলিশের পোশাক ছাড়া সাধারণ প্যান্ট-টি–শার্ট পরিহিত অবস্থায় ছিলেন। তার মাথায় কাপড় বাঁধা এবং মুখে আঘাতের চিহ্ন ছিল। ভিডিওতে তাকে মারধরের সময় তিনি নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বলিভদ্রদিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রয়েছে এবং তিনি একটি মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি। এ মামলার সূত্র ধরে এএসআই ইমরান নিয়মিত ওই বাড়িতে যাতায়াত করতেন বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, এই যাতায়াতের কারণে মেহেদী হাসানের স্ত্রীর সঙ্গে এএসআই ইমরানের ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে ওঠে। শুক্রবার গভীর রাতে তিনি ওই বাড়িতে গেলে এলাকাবাসীর সন্দেহ হয় এবং একপর্যায়ে তাকে আটক করে মারধর করা হয়।
তবে এ বিষয়ে এএসআই ইমরান জানিয়েছেন, তিনি পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করার উদ্দেশ্যেই সেখানে গিয়েছিলেন। যদিও গভীর রাতে একা এবং সাদা পোশাকে যাওয়ার বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।
অন্যদিকে, আসামি মেহেদী হাসানের দাবি, তার অনুপস্থিতিতে এএসআই ইমরান বারবার তার বাড়িতে এসে তার স্ত্রীকে কুপ্রস্তাব দিতেন। তিনি আরও জানান, এ সংক্রান্ত অডিও ও ভিডিও প্রমাণ তার কাছে রয়েছে। ঘটনার রাতে হাতেনাতে ধরা পড়লে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, মাদক মামলার আসামি ধরতে গিয়ে ওই পুলিশ সদস্য স্থানীয়দের হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন। তবে কেন তিনি গভীর রাতে একা এবং পুলিশের পোশাক ছাড়া অভিযানে গিয়েছিলেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা চলছে।