প্রকাশিত: ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১০ পিএম
1688
০১ মে ২০২৬, ০৬:৩৮ এএম
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র
পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) থেকে জ্বালানি ইউরেনিয়াম লোডিং কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এই ধাপটি প্রকল্প বাস্তবায়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু এগোলে আগামী জুলাই মাসের শেষ অথবা আগস্টের শুরুতে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ২৮ এপ্রিল জ্বালানি লোডিংয়ের দিন নির্ধারণ করা হয়। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থার মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
এছাড়াও আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার প্রতিনিধি এবং রুশ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। তবে সময়সূচিগত কারণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকছেন না।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হওয়ার পর প্রায় তিন মাসের মধ্যে প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা যাবে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়িয়ে ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে, গত ১৬ এপ্রিল বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ প্রথম ইউনিট পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্স প্রদান করে এবং ৫২ জন বিশেষজ্ঞকে অনুমোদন দেয়। কিছু কারিগরি জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়সূচিতে পরিবর্তন এনে নতুন তারিখে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে।
ঈশ্বরদীর পদ্মা নদীর তীরে নির্মাণাধীন এই বৃহৎ প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার। দুটি ইউনিট মিলিয়ে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।
জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরুর খবরে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের প্রত্যাশা, এই কেন্দ্র চালু হলে বিদ্যুৎ সংকট অনেকাংশে দূর হবে এবং লোডশেডিং পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে। তারা জানান, দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর এমন একটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন হওয়ায় এলাকায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে।
প্রকল্পে কর্মরত বিদেশি বিশেষজ্ঞরাও মনে করছেন, এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হলে দেশের জ্বালানি খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে এবং সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পাবনার জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের এই সময়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র দেশের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ উৎস হিসেবে গড়ে উঠবে। ইতোমধ্যে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রমের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কেন্দ্র চালু হলে দেশের বিদ্যুৎ খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমে যাবে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়নেও এর প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।