শনিবার ১৩, জুন ২০২৬

১৩ জুন ২০২৬, ১০:০১ এএম

অপতথ্য ও ডিজিটাল ঝুঁকি মোকাবিলায় জাতীয় কর্মপরিকল্পনা দরকার: তথ্যমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৭ জুন ২০২৬, ১১:৫৮ এএম

1714

গোলটেবিল বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন

ভুয়া খবর, অপতথ্য এবং ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল ঝুঁকি মোকাবিলায় একটি সময়োপযোগী ও কার্যকর জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

 

তিনি বলেছেন, বর্তমান বাস্তবতায় শুধু সমস্যা চিহ্নিত বা বিশ্লেষণ করাই যথেষ্ট নয়; বরং বাস্তবসম্মত সমাধান ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নির্ধারণ এখন সময়ের দাবি।

শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত “বাংলাদেশে ভুয়া খবর মোকাবিলায় নীতি, প্রযুক্তি ও জবাবদিহিতা” শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয়তাবাদী আইসিটি ফোরাম এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ভুয়া খবর, মিস-ইনফরমেশন এবং ডিস-ইনফরমেশনের বিস্তার শুধু গণমাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য নয়, বরং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং জনআস্থার জন্যও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি সুসংগঠিত ও বাস্তবভিত্তিক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন জরুরি।

তিনি প্রযুক্তি ও নীতিনির্ধারণ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, একটি সময়োপযোগী ‘ই-সেফটি প্ল্যান’ বা জাতীয় কর্মপরিকল্পনার খসড়া প্রস্তুত করে সরকারের কাছে উপস্থাপন করা প্রয়োজন। এ ধরনের পরিকল্পনা ডিজিটাল নিরাপত্তা জোরদার এবং ভুয়া তথ্যের বিস্তার রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

মন্ত্রী আরও বলেন, অপতথ্য মোকাবিলায় সাধারণ জনগণের সচেতনতার পাশাপাশি নীতিনির্ধারকদেরও বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। সঠিক নীতিমালা, শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এবং প্রযুক্তিনির্ভর বাস্তবায়ন ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে এ ধরনের চ্যালেঞ্জ কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এ প্রযুক্তি সভ্যতা, অর্থনীতি এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হলেও এর সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলোও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। প্রযুক্তির সুফল গ্রহণের পাশাপাশি নিরাপত্তা ও নৈতিকতার বিষয়গুলো সমানভাবে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে কেবল ভৌগোলিক সীমান্ত নয়, বরং ডিজিটাল অবকাঠামো, তথ্যভান্ডার এবং ডেটা সুরক্ষাও জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। তাই দেশের ডিজিটাল সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সুরক্ষা ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী করতে হবে।

সরকারের নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর বিষয়টি উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, জ্ঞানভিত্তিক ও তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ ছাড়া বর্তমান সময়ের জটিল প্রযুক্তিগত ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।

জাতীয়তাবাদী আইসিটি ফোরামের সদস্য এবং প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সমস্যা নিয়ে দীর্ঘদিন আলোচনা হয়েছে। এখন প্রয়োজন কার্যকর সমাধান। এ লক্ষ্যে একটি বাস্তবসম্মত, সুস্পষ্ট এবং সময়োপযোগী জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন অত্যন্ত জরুরি।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিশেষজ্ঞদের প্রস্তাবিত কর্মপরিকল্পনা দেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা জোরদার করবে এবং একটি নিরাপদ, প্রযুক্তিনির্ভর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

গোলটেবিল বৈঠকে তথ্যপ্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, গণমাধ্যম, নীতিনির্ধারণ এবং ডিজিটাল যোগাযোগ খাতের বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ অংশগ্রহণ করেন। আলোচনায় ভুয়া খবর প্রতিরোধ, তথ্য যাচাই ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ, ডিজিটাল সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

Link copied!