শনিবার ১৩, জুন ২০২৬

১৩ জুন ২০২৬, ০৯:৫৬ এএম

ভারত-বাংলাদেশ মিলে বিশ্বশক্তিরূপে আত্মপ্রকাশ করবে: ভারতীয় হাইকমিশনার

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ জুন ২০২৬, ০৫:৫৭ পিএম

1697

বাংলাদেশ ও ভারত যখন সম্মিলিতভাবে কাজ করবে, তখনই প্রকৃত শক্তির বহিঃপ্রকাশ ঘটবে—এমন এক শক্তি, যা পুরো বিশ্ব প্রত্যক্ষ করবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেন, "ভারতের ১৪০ কোটি জনসংখ্যার সঙ্গে বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের শক্তি যোগ হলে তা ১৬০ কোটির এক বিশাল শক্তিতে রূপ নেবে। দুই দেশের শক্তিশালী গণতন্ত্র ও অর্থনীতি মিলেমিশে কাজ করলে আমরা বিশ্বমঞ্চে একটি অপ্রতিরোধ্য 'ওয়ার্ল্ড পাওয়ার' বা বিশ্বশক্তিরূপে আত্মপ্রকাশ করতে পারব।"

আজ শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

দুই দেশের ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক অভিন্নতার কথা তুলে ধরে হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, "দুই দেশকে আলাদাভাবে আমি ভাবছিই না। আমার মনে ওটা ঢুকছেই না। দেখুন তো, সীমান্ত পার হয়ে কীভাবে হেঁটে চলে এলাম! আমার মনেই হচ্ছে না যে আমি অন্য কোনো দেশ বা বাংলাদেশে এসেছি। দুই দেশের একই আকাশ, একই বাতাস, একই যন্ত্রণা। তাহলে আমরা কেন মিলেমিশে থাকবো না?"

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, "গণতন্ত্রে অনেক রাজনৈতিক ইস্যু বা মতপার্থক্য থাকতেই পারে। তবে বাংলাদেশের ডেমোক্রেসি (গণতন্ত্র) যেমন স্ট্রং, আমাদের ভারতের ডেমোক্রেসিও তেমনি স্ট্রং। এই দুই ডেমোক্রেসি যখন নিজেদের স্বার্থে এক হয়ে যাবে, তখন সামগ্রিকভাবে একটি নতুন ইকোনমিক ওয়ার্ল্ড পাওয়ার (অর্থনৈতিক বিশ্বশক্তি) তৈরি হবে।"

দ্বিপাক্ষিক সুসম্পর্ক এগিয়ে নিতে পারস্পরিক যোগাযোগের ওপর গুরুত্বারোপ করে নতুন এই কূটনীতিক বলেন, "দুই দেশের এই পারস্পরিক মেলামেশা ও নিবিড় যোগাযোগ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। আমি আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে শতভাগ তৎপর, তবে এই লক্ষ্য অর্জনে আপনাদের (বাংলাদেশের মানুষ ও সংবাদমাধ্যম) সর্বাত্মক সমর্থন ও সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন। আপনাদের সহযোগিতা ছাড়া এই যৌথ অগ্রযাত্রা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।"

উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে দিনেশ ত্রিবেদী বলেন, "আপনাদের মাধ্যমেই দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগের সেতুবন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে। এটি আমাদের যৌথ যাত্রার কেবল প্রথম পদক্ষেপ। বর্তমানে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের যে বিশ্বজনীন যুগ চলছে, তাতে ভারত ও বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের অনন্য মেধা ইতিমধ্যেই বিশ্বকে নেতৃত্ব দিচ্ছে।"

তিনি দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বের নতুন ক্ষেত্রসমূহ চিহ্নিত করে আরও বলেন, "আমাদের দুই দেশের এই প্রতিভাকে যদি খেলাধুলা, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা, উন্নত প্রযুক্তি এবং বিশ্বমানের শিক্ষার মতো ক্ষেত্রগুলোতে একটি যৌথ টিমের (Joint Team) মতো সমন্বয় করা যায়, তবে আমরা যেকোনো অসাধ্য সাধন করতে পারব। আজ আমাদের এই সম্প্রীতির যে নতুন সূচনা হলো, তা আগামী দিনে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন ও অত্যন্ত শক্তিশালী অধ্যায়ের জন্ম দেবে বলে আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি।"

Link copied!