শনিবার ১৩, জুন ২০২৬

১৩ জুন ২০২৬, ০৯:৫৬ এএম

শিশুরা যেন দেশের সম্পদ হয়ে উঠতে পারে, সেভাবে তাদের গড়ে তুলতে হবে: মির্জা ফখরুল

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ জুন ২০২৬, ০৬:২১ পিএম

1698

ঠাকুরগাঁওয়ের শহিদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে এক খুদে শিক্ষার্থীর হাতে স্কুলব্যাগ ও শিক্ষা উপকরণ তুলে দিচ্ছেন মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

“আমাদের কোমলমতি শিশুরা যাতে আগামী দিনে বোঝা না হয়ে দেশের প্রকৃত সম্পদ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে, তাদের ঠিক সেভাবেই আধুনিক শিক্ষায় গড়ে তুলতে হবে। নতুন প্রজন্মের পড়াশোনায় বিশেষ তাগিদ ও মনোযোগ দিতে হবে, যাতে তারা বড় হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে,” বলেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শুক্রবার (১২ জুন) সকাল সাড়ে ১১টায় ঠাকুরগাঁও শহরের ঐতিহাসিক শহিদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুলব্যাগ ও উন্নত শিক্ষা উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘তরুণ মেধার বিকাশ, উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নির্মাণ’—এই অনন্য প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী উদ্যোগের (Bangladesh-China Friendship Initiative) অধীনে জমকালো এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

শিক্ষার্থীদের দেশের মূল চালিকাশক্তি ও ভবিষ্যৎ উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “আমাদের বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও শিশুদের সার্বিক উন্নয়ন ও অধিকার নিয়ে বিশেষভাবে কাজ করতে চান। তিনি দেশের প্রতিটি শিশুকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত এবং প্রতিভাবান হিসেবে গড়ে তুলতে অত্যন্ত আন্তরিক। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার ইতিমধ্যে বেশ কিছু যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে—যার মধ্যে দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের সকল শিক্ষার্থীদের মাঝে পোশাক (ইউনিফর্ম), প্রয়োজনীয় সহ-শিক্ষা সামগ্রী এবং এডুকেশন কিট সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিতরণ অন্যতম। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় আমাদের শিশুরা যাতে মেধার স্বাক্ষর রেখে টিকে থাকতে পারে, সেজন্য তথ্যপ্রযুক্তি ও আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণেরও জোরালো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষক ও অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে সমবায় মন্ত্রী বলেন, “পরিবার ও বিদ্যালয় হলো শিশুদের মূল ভিত্তি। শিশুরা যাতে দেশপ্রেমিক ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে, সে দায়িত্ব আপনাদের। তাদের নৈতিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে।”

অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের মহামান্য রাষ্ট্রদূতের বিশেষ উপস্থিতির জন্য গভীর ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “চীন বর্তমান বিশ্বের অন্যতম একটি অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত পরাশক্তি এবং তারা প্রতিনিয়ত নিজেদের আরও উন্নত করছে। চীন কেবল নিজেদের সমৃদ্ধিই নয়, বরং বিশ্বের বিভিন্ন বন্ধুপ্রতিম দেশের জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও অবকাঠামো নির্মাণেও নিরলসভাবে কাজ করছে এবং আমাদের বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়নেও তাদের জোরালো সমর্থন রয়েছে। চীনের রাষ্ট্রদূত আমাদের আশ্বস্ত করেছেন যে, চলতি ২০২৬ সাল এবং আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে বাংলাদেশে নতুন নতুন ভারী কলকারখানা ও শিল্পাঞ্চল স্থাপনের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা যাচাই করতে চীন থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ প্রতিনিধিদল খুব শীঘ্রই ঢাকা সফরে আসবে।”

ঠাকুরগাঁওবাসীর জন্য একটি বড় সুখবর দিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আরও জানান, “ঠাকুরগাঁও জেলার বিশাল কৃষি সম্ভাবনা ও এগ্রো-বেজড ইন্ডাস্ট্রিকে আন্তর্জাতিক মানে রূপ দিতে চলতি বছরের জুলাই-আগস্ট মাসেই চীনের একটি বিশেষ কারিগরি ও বিনিয়োগকারী প্রতিনিধিদল সরাসরি এই জেলাটি পরিদর্শনে আসবে। পাশাপাশি প্রতিবছরই বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের ভাগ্য উন্নয়নে চীনের পক্ষ থেকে এমন দ্বিপাক্ষিক মানবিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে রাষ্ট্রদূত আমাদের জোরালো আশ্বাস দিয়েছেন।”

আজকের এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী উদ্যোগের আওতায় ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৬ হাজার ৫০০ জন সুবিধাবঞ্চিত ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে আকর্ষণীয় স্কুলব্যাগ, খাতা, পেনসিল বক্স ও কলমসহ হরেক রকমের উন্নত শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়। উপহার পেয়ে খুদে শিক্ষার্থীদের মাঝে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত এইচ. ই. ইয়াও ওয়েন (H.E. Yao Wen)। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পায়গাম আলীসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।

Link copied!