প্রকাশিত: ০৪ মে ২০২৬, ১২:২৪ পিএম
1692
০৫ মে ২০২৬, ০৪:৩৭ পিএম
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় স্কুল ফিডিং প্রকল্পের আওতায় শিক্ষার্থীদের মাঝে পচা ডিম ও নিম্নমানের কলা সরবরাহ করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (৪ মে) দুপুরে উপজেলার পুষনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের দেওয়া পচা ডিমের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে গত বৃহস্পতিবারও একই বিদ্যালয়ে পচা ডিম সরবরাহ করা হয়েছিল বলে জানা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকারের উদ্যোগে স্কুল ফিডিং প্রকল্প চালু করা হয়। এই প্রকল্পের আওতায় কিশোরগঞ্জ উপজেলার ১৭৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট ২১ হাজার ৩৩৪ জন শিক্ষার্থী খাবার পেয়ে থাকে। তবে অভিযোগ উঠেছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়মিতভাবে নিম্নমানের ও অনুপযোগী খাবার সরবরাহ করছে।
অভিভাবক ও এলাকাবাসীর দাবি, শুধু পুষনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নয়, উপজেলার আরও কয়েকটি বিদ্যালয়েও একই ধরনের নিম্নমানের খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। বিষয়টি একাধিকবার শিক্ষা কর্মকর্তাদের জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
এক অভিভাবক মনোয়ার হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য এমন পচা খাবার সরবরাহ করা অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে। সরকারের ভালো উদ্যোগ থাকলেও বাস্তবায়নে গাফিলতি রয়েছে।
অপর অভিভাবক সালমা বেগম বলেন, শিশুদের এ ধরনের খাবার দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এগুলো খেলে তারা অসুস্থ হয়ে পড়বে।
পুষনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোর্শেদা বেগম জানান, শিক্ষার্থীদের জন্য আনা ডিম বিতরণ করা হয়েছিল। পরে খাবারের সময় দেখা যায় অনেক ডিম পচা অবস্থায় রয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো ফেরত নেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি সরবরাহকারীদের জানানো হয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ডা. মাহমুদা বেগম বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। পচা খাবার সরবরাহ করা একটি গুরুতর অপরাধ। এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে হবে।